Opu Hasnat

আজ ১৪ অক্টোবর সোমবার ২০১৯,

ফমেকের পর্দা দুর্নীতির তদন্তে ৫ সদস্যের দল ফরিদপুরে স্বাস্থ্যসেবাফরিদপুর

ফমেকের পর্দা দুর্নীতির তদন্তে ৫ সদস্যের দল ফরিদপুরে

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দুর্নীতি যেনো হাল সময়ের রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্রের বালিশ ক্রয়ের দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে। রুপপুরে ৬ হাজার টাকায় বালিশ কেনা হয়েছিলো আর এখানে ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে আইসোলেশন কক্ষের পর্দা। আর এমন ঘটনার তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশনায় দুদুক থেকে দুজন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দুজন ও নিমিউ থেকে একজন মোট ৫ সদস্যর একটি দল এখন ফরিদপুরে। তারা বুধবার সারাদিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আর বৃহস্পতিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তদন্ত করে। তদন্ত টিমে রয়েছেন দুদুকের উপসহকারী পরিচালক মোঃ শহিদুর রহমান, উপ সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান, নিমিউ এর সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার নাশিদ রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপরিচালক ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন ও সহকারী পরিচালক ডাঃ শফিকুর রহমান। এসময় তারা পর্দা ও যেসব মেশিন ঘুড়ে দেখেন তা ব্যবহার না করার কারনে মেশিন গুলোর অনেক গুলোই নষ্ট হয়েগেছে বলে তারা জানান।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, পাচঁ সদস্যর একটি তদন্ত দল ফরিদপুরে এসেছে। প্রথমদিনে তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আর বৃহস্পতিবার তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তদন্ত করে। আমি তাদেরকে তদন্তের ব্যাপারে সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করছি। যেহেতু আমার সময়ের ঘটনা এটি নয় তারপরেও তারা যা যা আমাদের কাছে চাচ্ছে আমি সেইসব তথ্য দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করছি।   

দুদুকের উপসহকারী পরিচালক মোঃ শহিদুর রহমান জানান, আমরা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ ও দুদুক এই দুইপক্ষ থেকে এই তদন্তে এসেছি। তিনি বলেন, বেশীর ভাগ মেশিন ব্যবহার না করার কারনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বহুল আলোচিত পর্দা ব্যবহার না হওয়া ও সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দুই জায়গায় ঘুরে দেখেছি। ঢাকা গিয়ে এ ব্যাপারে রির্পোট জমা দেয়া হবে।    

উল্লেখ্য, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়ম এবং আর্থিক ঘাপলার হয়েছে অভিমত ব্যক্ত করে হাইকোর্ট দুদককে এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে। ২০১২ সালের সময়কালে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরণের ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিল পেলেও ১০ কোটি টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যন্ত্রপাতির দাম বেশি দেখানোসহ বিভিন্ন অসংগতির কারনে আটকে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১ জুন অনিক ট্রেডার্স হাইকোর্টে এটি রীট করে। এ রীট করার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্ব্য সেবা বিভাগের সচিব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অনিক ট্রেডার্সের সরবরাহ করা ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির একটি তালিকা চেয়ে পাঠান। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা গত ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই ১০ কোটি টাকার বিপরীতে দামসহ ১০ টি আইটেমের যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দেন। আর তাতেই উঠে আসে মহা দূর্নীতির খবর।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর