Opu Hasnat

আজ ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ঢাবিতে অস্ত্রসহ দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক ক্যাম্পাস

ঢাবিতে অস্ত্রসহ দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার পর পিস্তল ও ইয়াবাসহ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে প্রক্টোরিয়াল বডি। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হলের ১২১ নম্বর রুমে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় ওই রুম থেকে ফুল লোডেড একটি রিভলবার, ছয় পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেনসিডিল, সিসি ক্যামেরা, বেশ কয়েকটি রড ও একটি খেলনা রাইফেল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিগত কমিটির সাবেক উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান তুষার ও উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবু বকর আলিফ।

এ ঘটনায় ইমরান ফরহাদ ইমন নামে একজন পলাতক রয়েছেন। তিনি মুহসীন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। 

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী ও হল অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে হাসিবুর রহমান তুষার হলের ৩১৪ নম্বর রুম দখল করতে যায়। এ সময় হল ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক রিয়াজ ফরাজী ও হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রিড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান তাকে বাধা দেয়। 

এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সন্ধ্যার দিকে প্রথমে জাহিদকে এবং পরে রিয়াজকে হলের রুমে ডেকে নেয় তুষার এবং রাজনীতি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

হলের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তুষার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও হল শাখার কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে হলে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

হল প্রাধ্যক্ষ নিজামুল হক ভুইয়া বলেন, ‘তুষার আমাদের হল সংসদের এক নেতা এবং আরেক শিক্ষার্থীকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছিল। প্রক্টোরিয়াল টিম অভিযান চালিয়ে রুম থেকে পিস্তল ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে।’

এ ঘটনায় তাদের হল থেকে বহিষ্কার এবং শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এত দিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘আমরা দুইবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তার রুম বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ছাত্রলীগের বিগত এক সভাপতি সুপারিশ করেছিল।’ তবে ওই নেতার নাম বলতে চাননি তিনি।

এর আগে গত ২১ জুলাই মাস্টার দা সূর্যসেন হলের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন নিজের পকেটে রাখা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।