Opu Hasnat

আজ ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

আরবারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে : আবরারের বাবা কুষ্টিয়া

আরবারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে : আবরারের বাবা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

মঙ্গলবার সকালে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাল, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ৬ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালাল, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত।’

এদিকে আবরারের চাচা বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো নেতার ইন্ধন রয়েছে। কেননা দু-একজন নয়, সেখানে ১৫ জনেরও বেশি ছেলে হত্যায় অংশ নিয়েছে। পরিকল্পিত ছাড়া এতজন কাউকে মারতে পারে না। হাইকমান্ডের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।’

মঙ্গলবার পৌনে ৮টার দিকে আবরারের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে হাজারও মানুষ জড়ো হন। প্রতিবেশী-স্বজনদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদেরও কাঁদতে দেখা যায়।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টায় তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। বেলা ১০টার পর আবরারের তৃতীয় জানাজা হবে। এর পর দুপুরে গ্রামের গোরস্তানে দাফন করা হবে।

রবিবার (৬ অক্টোবর) দিনগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করে বুয়েটের ৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৯ জনকে।

এ ছাড়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ কমিটির ১১ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়।