Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

কালকিনিতে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ মাদারীপুর

কালকিনিতে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিনামুল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের চর আলীমাবাদ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেখানে বিদ্যুৎ অফিস সংযোগ প্রতি ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জনিত জামানত বাবদ ৪৫০ টাকা করে নিচ্ছেন। আর সেখানে স্থানীয় একটি দালাল চক্র উত্তোলন করেছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রহকরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের চর আলীমাবাদ  গ্রামে ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়ে বিদুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ শুরু করে  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিএন্ডজি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ওই গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল শিকদার ও তার সহযোগী মোশারফ ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ ৫শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মোশারফ ফকির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্ট্রাকটর সুজন মিয়ার কাছেও দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় সুজন ও তার সহযোগীদের মোশারফ তার লোকজন নিয়ে মারধর করেন। যার ফলে দীর্ঘ ৬ মাস চলমান কাজ বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বন্ধ রাখে। এদিকে মিটার প্রতি চাঁদা দিয়েও সময় মত বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রামবাসীর। এ ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।  কিন্তু এ লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পায়নি এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী মোঃ বাবুল ফকির, মোঃ কবির ফকির, জাকির ফকির, শেফালী বেগম ও বিউটি আক্তার জানান, পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইনে কাজ করার সময় শহিদুল মেম্বার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ শত টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। তার লোক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকদের কাছেও চাঁদা দাবি করে এবং মারধর করে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ মাসের বেশি সময় কাজ বন্ধ রাখে। কিছুদিন পূর্বে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু করে। কিন্তু আমাদের গ্রামবাসীর কাছ থেকে যে চাঁদা তুলে নিয়েছে তার কোন প্রতিকার আমরা পাইনি। আমরা ইউপি মেম্বার ও তার সহযোগীর শাস্তির দাবি জানাই। 

অভিযুক্ত কয়ারিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বা আমার কোন সহযোগী পল্লী বিদ্যুৎতের লাইন টানার সময় কোন টাকা নেইনি। আমার বিরুদ্ধে যে কথা বলা হচ্ছে তা সর্ম্পূণ মিথ্যা।

বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর এজিএম পারভেজ আলম বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে একটি দতন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ঐ এলাকায় গিয়ে গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এসেছি। তদন্তের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীঘ্রই আমরা তদন্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারবো। আমি কয়েক দিন পূর্বে দেখে এসেছি ৫৬৪ জন গ্রাহকের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে। বাকিরা খুব শিঘ্রই সংযোগ পেয়ে যাবে।