Opu Hasnat

আজ ১৪ অক্টোবর সোমবার ২০১৯,

ব্রেকিং নিউজ

নৌপথে চাঁদাবাজীর প্রতিবাদে শ্রমিকদের মানববন্ধন সুনামগঞ্জ

নৌপথে চাঁদাবাজীর প্রতিবাদে শ্রমিকদের মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সুরমা ও বৌলাই নদীতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কাছ থেকে টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বালু-পাথর, কয়লা শ্রমিকরা। রবিবার বিকেলে জামালগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর পূর্ব পাড়ে গজারিয়া বাজারে ঘণ্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বালু-পাথর, কয়লা, নৌ-শ্রমিকদের পাশাপাশি বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদ আলী, প্রাক্তন ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহমদ, ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন, গজারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাওলানা এমদাদুল হক, শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম, প্রবাল মিয়া, গোলাপ মিয়া, নৌযানের সুকানী বশির আহমদসহ স্থানীয় লোকজন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সুরমা ও বৌলাই নদী পথে টোল আদায়ের নামে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন চাঁদাবাজী করে আসছে। এতে বালু পাথর, কয়লা ও সাধারণ শ্রমিকরা হয়রানী শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন এসব চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে নৌপথের সকল শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত হয়রানী ও মাঝেমধ্যে মারধরের শিকার হয়। চাঁদাবাজীর ফলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বালু-পাথর ও নৌ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ’র নাম ভাঙ্গিয়ে জনৈক ইয়াকবীর আফিন্দী সুরমা ও বৌলাই নদীতে টোল আদায়ের নামে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছেন। তার সাথে রাজনৈতিক দলের আরও একাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন। তারা প্রভাব খাটিয়ে নদী পথে বালু পাথর ও কয়লা পরিবহনকারী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করেন। নদীর তীরে বালু-পাথর মওজুদ করলে ও বিক্রি করলে তাদেরকে প্রতি ফুটে প্রায় দুই টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজীর কারণে নদী তীর ও বালু-পাথর ও কয়লার সাথে জড়িত শ্রমিকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিএ আমাদের জানিয়েছেন জামালগঞ্জের সুরমা ও বৌলাই নদীতে তাদের কোন ইজারাদার নেই। কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। কিন্তু ইয়াকবীর আফিন্দী গজারিয়া বাজারের পাশ্ববর্তী সুরমা ও বৌলাই নদীতে চাঁদা উত্তোলন করেন।’ বক্তারা নৌপথে চাঁদা আদায় বন্ধে আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। চাঁদাবাজী বন্ধ না হলে এলাকার সকল নৌপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসুচি দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইজারাদার ইয়াকবীর আফিন্দীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি চাদাঁবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন তিনি এই নদীতে বিআইডাব্লিউটিএ’র নিকট হতে লীজ নিয়ে টোল আদায় করছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর