Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

নগরীর জীববৈচিত্র সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে চসিক : চসিক মেয়র চট্টগ্রাম

নগরীর জীববৈচিত্র সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে চসিক : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন বলেছেন, বিপুল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। আমাদের এই বিপুল জনসংখ্যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে জীববৈচিত্রের সাথে সম্পৃক্ত। সে হিসেবে জীববৈচিত্র রক্ষায় আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। নগরের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চসিক তাঁর এই দায়িত্ব কোনোভাবে এড়াতে পারে না। তাই নগরীর সকল ওয়ার্ডের জীববৈচিত্রের জরিপ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। 

তিনি রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে জীববৈচিত্র সার্ভে এবং সংরক্ষণ শুলকবহর ওয়ার্ডের পাইলট প্রকল্প -২০১৮ হন্তান্তর অনুষ্ঠানে একথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বায়োডাইভারসিটি রিচার্স গ্রুপ অব বাংলাদেশ (বিআরজিবি) এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.বদরুল আমিন ভূইয়া পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জীববৈচিত্রের জরিপ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ( চবি)’র বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন এবং চবি’র প্রাণি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড.মোঃ ইসমাঈল মিয়া বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিআরজিবি’র সদস্য, জাইকা এবং ডিএফ আইডি’র পরিবেশ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর নোমান আহমদ সিদ্দিকী, সহকারী বিজ্ঞানী ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.শহিদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের উম্মে হাবিবা রীমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চসিক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, জীববৈচিত্র রক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সজাগ করতে হবে। আর তা না করতে পারলে এর ক্ষতিকর প্রভাব আমাদেরকেই বহন করতে হবে।এই বিরুপ প্রভাব থেকে এ ধরণীকে রক্ষার জন্য জীববৈচিত্র সংরক্ষণ অতীব জরুরী। এক্ষেত্রে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বিভিন্ন বেসরকারি ও এনজিও প্রতিষ্ঠানকেও এই জীববৈচিত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। 

সিটি মেয়র আরো বলেন, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় তথা সুস্থতার সঙ্গে জীবন ধারণের জন্যই প্রয়োজন সমৃদ্ধ জীববৈচিত্রের। মানুষসহ সমগ্র প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য একান্ত অপরিহার্য। আর এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সঠিক সংখ্যায় সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বেঁচে থাকাটা দরকার। মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের স্বার্থে জীববৈচিত্র রক্ষা করা আবশ্যক। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেঁচে থাকার জন্য জীববৈচিত্রের প্রয়োজন। শুধু কয়েকটি আলোচিত প্রজাতি রক্ষা করলেই জীববৈচিত্রের রক্ষা হয় না। জীববৈচিত্রের রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সব প্রকারের জীব প্রজাতির ব্যাপারে সমান গুরুত্ব দেয়া। এই কাজটি অচিরে শুরু করবে চসিক। জীববৈচিত্র সার্ভে ও সংরক্ষণ প্রকল্পের চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে সিটি মেয়র বলেন হারিয়ে যাওয়ার জীববৈচিত্রের সংরক্ষণ করা অতীব জরুরী। তাই চট্টগ্রাম নগরে একটি জীববৈচিত্র সংগ্রহশালা (যাদুঘর) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে সিটি মেয়র সর্বাত্মাক সহযোগিতা করবে বলে উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে বিআরজিবির জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য সুপারিশ সমূহ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে  বাস্তবায়নেরও  আশ্বাস দেন মেয়র।    

বিআরজিবি’র চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ অধ্যাপক ড.বদরুল আমিন ভুঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন শুলকবহর ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ২০১৮ সালে ৮ই অক্টোবর মাসে চসিক এর সাথে বিআরজিবি’র এমও ইউ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পর থেকে জীববৈচিত্র সার্ভে এবং কনজারভেশন কাজ শুরু করে বায়োডাইভাসিটি রিসার্চ গ্রুফ অব বাংলাদেশ (বিআরজিবি) । সম্প্রতি এই জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।এই জরিপকাজে শুলকবহর ওয়ার্ডে ৭৯০ টি প্রজাতি চিহ্নিত করেছে বিআরজিবি। এর মধ্যে ২২টি অনুজীব, ৩৯০টি উদ্ভিদ ও ৩৭০ টি প্রাণী রয়েছে। এছাড়া গৃহ পালিত ৪জাতের মুরগী, ৩ জাতের হাঁস, কয়েক জাতের কোয়েল, ৪ জাতের গবাদী পশু এবং ৩ জাতের ছাগল এই ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে। স্থানীয় এবং বিদেশী প্রজাতির বিড়াল ও কুকুর, ১২ প্রজাতির এ্যাকুরিয়াম মাছ, ৪ ভ্যারাইটির কুকুর, ১ প্রজাতির চিত্রল হরিণ  এবং ১০ প্রজাতির পাখি বন্ধী অবস্থায় দেখা যায় বলে বিআরজিবি’র চেয়ারম্যান তার বিপোর্টে উল্লেখ করেন। 

এছাড়া এই ওয়ার্ডে অনেক প্রজাতির জীব বিলুপ্তির হুমকিতে আছে। মানুষের মধ্যে জীবানু বিস্তারের সম্ভাব্য কীট পতঙ্গ বিশেষত ডেঙ্গু জীবানু বাহক এডিস মশাও এই ওয়ার্ডে পাওয়া যায়। নগরায়নের কারনে চট্টগ্রাম শহরে জীববৈচিত্র বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে। তাছাড়া ক্ষতিকর পতঙ্গ দমনে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং উপকারী পতঙ্গ যেমন-পরাগায়নকারী মৌমাছি ও প্রজাপতি মারা পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সার্ভেতে বিআরজিবি’র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড.আমিন উদ্দিন মৃধা, প্রফেসর ড.মো. ইসমাইল মিয়া, প্রফেসর ড. মো. কামাল হোসাইন, প্রফেসর নোমান আহমদ সিদ্দিকী, ড.শেখ আবদুল মান্নান, ড.শহিদুর রহমান, সন্তোষ মজুমদার, উম্মে হাবিবা রীমা, আকতার হোসেন, ড.এম এ খালেক সহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চটগ্রাম কলেজের ১৬ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।