Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

কালকিনিতে রাতের আধাঁরে চুড়ির হিড়িক! মাদারীপুর

কালকিনিতে রাতের আধাঁরে চুড়ির হিড়িক!

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বেশ কিছু দিন ধরে রাতের আধাঁরের বিভিন্ন বাড়িতে-বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুড়ির হিড়িক পড়েছে। চোরেরা লুট করে নিচ্ছে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র। এতে করে সাধারন মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের নীরব ভুমিকায় জনসাধারনে মাঝে বইছে ব্যাপক সামালোচনার ঝড়।

ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার কাজীবাকাই এলাকার ভাউতলী গ্রামের মোঃ রাজন হাওলাদের বাড়িতে শনিবার গভীর রাতে চুরি সংগঠিত হয়। এসময় স্থাণীয় জনতা এক যুবককে গণধোলাই দেয়। এ ছাড়া সম্প্রতি কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক যুগান্তর ও একাত্তর টিভির কালকিনি উপজেলা প্রতিনিধি এইচ এম মিলনের গ্রাম পৌর এলাকার উত্তর কাষ্টগরের বাড়িতে দরজা ভেঙ্গে এবং কিছুদিন পরে তার উপজেলা সদরের ভাড়া বাসার দুই তলার জানালা দিয়ে একটি মোবাইল, ম্যানিব্যাগ, স্বর্নের চেইন ও বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় চোরেরা। ওই গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল ভুইয়ার দরজা ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা করা হয়। উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল তালুকদারের দক্ষিন কাষ্টগরের বাড়িতে সিঁদ কেটে একটি মোবাইল চুরি, সবুজ কাজীর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র, পৌর এলাকার কাশিমপুর গ্রামের আবুল মৃধার বাড়ির কেচি গেটের তালা ভেঙ্গে স্বর্নলঙ্কার ও পৌর এলাকার সাদীপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরি করে চোর চক্র বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। উপজেলার গুরুত্বপূর্ন বন্দর খাশেরহাটের দোকানে-দোকানে প্রায় চুরি সংগঠিত হচ্ছে। কিন্তু একজন চোরকে ও থানা পুলিশ এ পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। উক্ত ওই সকল বাড়িতে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়ার পর অনেকে কালকিনি থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে একাধিক সুত্রে জানাগেছে। থানা পুলিশ রয়েছে নীরব ভুমিকায়। 

তবে অনেকে জানান, কিছু দিন আগে রাতের আধাঁরে কালকিনি থানা পুলিশের টহল অনেক জোরদার ছিল তাই চুরি কম হত। কিন্তু বর্তমানে পুলিশের টহল ব্যবস্থা নরবরে তাই চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। 

কাষ্টগড় গ্রামের হাসনাহেনা বেগম ও মুকুলি বেগমসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের বাড়িতে চুরি হয়েছে। কিন্তু থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে আমরা খুশি নই। তারা কোন চোরকে ধরতে পারেনি।

কালকিনি কলেজের শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, চুরি বৃদ্ধি পাওয়ার মুল উপাদান হচ্ছে জুয়া। আর এ জুয়া বন্ধ না হলে আগামীতে আরো চুড়ি বেড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম বলেন, যারা চুড়ির শিকার হচ্ছেন মুলত তারা আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।