Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ষোল দিন যাবৎ বন্ধ জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল রাজবাড়ী

ষোল দিন যাবৎ বন্ধ জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল

পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারনে ষোল দিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটের ফেরি পারাপার। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই নৌরুটে চলাচলকারী হাজারো যাত্রীর।

রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয় তথ্যমতে, হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাটের পল্টুনটি তলিয়ে যায়। এছারাও তীব্র স্রোতের মোকাবেলা করে ফেরি চলাচল ব্যঘাত হওয়ায় গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে জৌকুড়া- নাজিরগঞ্জ নৌরুটের ফেরি চলাচল।

কার্যালয়টি আরো জানায়, এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে ২ টি ফেরি, ২ টি লঞ্চ ও ১০ থেকে ১২ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। এই নৌযানগুলো দিয়ে প্রতিদিন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা ও সিরাজঞ্জ জেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ ও যানবাহন পারাপার করা হয়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ী কার্যালয়ের তথ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে এখনও বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রবিবার সকালে জৌকুড়া ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে থাকা পল্টুনটির অর্ধেক পানির নিচে তলিয়ে আছে। পায়ে হেটে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে উঠার জন্য বালুর বস্তা ফেলে চলাচলের উপযোগি করেছে ঘাটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। জীবনের ঝুকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে পার হচ্ছে মানুষ।

এদিকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুট বন্ধ থাকায় এই রুটে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে ঘাটে থাকা অর্ধশত দোকান।

জৌকুড়া ঘাটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তাফিজুর রহমান শরিফের প্রতিনিধি মোঃ সোহেল রানা জানান, এই রুটে ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। যাত্রীদের চলাচলের কথা বিবেচনা করে ট্রলারে পারাপার করা হচ্ছে। তবে কোনত্রমেই অতিরিক্ত যাত্রি নেওয়া হচ্ছে না। প্রতি এক ঘন্টা পরপর ট্রলার জৌকুড়া থেকে নাজিরগঞ্জ ছেড়ে যাচ্ছে।

জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুটের তত্ত্ববধানে থাকা রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন বলেন, এই নৌরুটের চলাচলকারী দুটি ফেরিই বর্তমানে সচল আছে। নদীতে স্রোত এতই বেশি যে ফেরি চালানো সম্ভব নয়। আমরা প্রতিদিন ঘাট এবং স্রোত দেখভাল করছি। স্রোত কমে গেলেই ফেরি চলাচল শুরু হবে।