Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ঘাট এলাকায় মহাদুর্যোগ রাজবাড়ী

ঘাট এলাকায় মহাদুর্যোগ

পদ্মার তীব্র স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলতে পারছে না ফেরি। যে কারনে শনিবার দুপুর থেকে ফেরি পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মাত্র তিনটি ফেরি দিয়ে কোনক্রমে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে লঞ্চ চলাচল ঝুকিপ‚র্ণ হয়ে ওঠায় এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় শনিবারও চোখের পলকে অন্তত অর্ধশত বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শত শত বসত বাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একদিকে ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আহাজারি অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষে দূর্ভোগে ঘাট এলাকায় যেন নেমে এসেছে মহা দুর্যোগ।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, স্রোতে সাথে পাল্লা দিয়ে ফেরি গুলো চলাচল ও ঘাটে ভিরতে না পারায় বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যানবাহন পারাপার। শুধু মাত্র যাত্রী পারাপারে জন্য ৩ টি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি চলাচল করছে ব্যাস্ততম এই নৌরুটে। এতে করে দৌলতদিয়া প্রান্তে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন।

সরেজমিন শনিবার বিকেলে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১ নং ফেরি ঘাট নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ২ নং ফেরি ঘাটও যে কোন সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকার শত শত বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। চোখের পানি আর গায়ে ঘাম যেন এক হয়ে গেছে। কারো কোন কথা বলার সময় নেই। সবারই একটাই চাওয়া, সর্বস্ব নদীতে বিলীন হওয়ার আগে যতটুকু সরানো যায়।

এ সময় কথা হয় আতিয়ার রহমান নামে এক যুুবকের সাথে, তিনি জানায় তারা তাদের বন্ধু রশিদের বাড়ি সরানো কাজে সহযোগিতা করতে এখানে এসেছেন। বন্ধুর এই দুঃসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, বাড়িঘর পদ্মায় চলে যাওয়ার আগে যতটুকু উদ্ধার করা যায় তাইবা কমকি?।

মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে শুনে এসেছেন মাজেদা বেগম। তিনিও বাড়ি থেকে আসবাবপত্র এনে সড়কের উপর রাখছেন। তিনি জানান, আমার মেয়ের সোনার সংসার ছিল। এক মুহুর্তে ওরা নিঃস্ব হয়ে গেলো। এরকম ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের আত্মীয় স্বজন যে যেখানে ছিল, সবাই ছুটে এসেছেন, আসবাবপত্র সরানো কাজ করছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গনের তীব্রতা আরো বাড়ছে।

গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে যানাবাহন পারাপার বন্ধ হওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন জেলা থেকে নদী পারাপার হতে আসা যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা। ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়ালে বসে থেকেও ফেরির নাগাল পায়নি। এরপর যখন যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে তখন ফেরির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বেশীর ভাগ যানবাহনের যাত্রীরা বাস ছেড়ে দিয়ে ব্যাগ-বোঝা নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ফেরি ঘাটে গিয়ে ফেরিতে নদী পারাপার হচ্ছেন। এতে দূর্ভোগের পাশাপাশি তাদের খরচ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলামের দাবী ভাঙ্গনের কবল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট রক্ষার জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রণি জানান, তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল কয়েকদিন ধরেই ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতে ফেরিগুলো ঘাটে ভিরতে সমস্যা হচ্ছে। তবে ব্যস্ততম এরুটে জনদূর্ভোগ কিছুটা কমানো জন্য বর্তমানে এ রুটে ১৬ টি ফেরির মধ্যে ৩ টি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। এ সকল ফেরিতে শুধুমাত্র যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।