Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ধন্যবাদ সারেং কোম্পানী

দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত সেই সবুজ’র সফল অস্ত্রপচার ঝালকাঠি

দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত সেই সবুজ’র সফল অস্ত্রপচার

দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত সেই সবুজের অস্ত্রপচার সফল হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাকে ওপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া ব্যবসায়ী জানে আলম জনি।  তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকালে সবুজের অপারেশন সফল হয়েছে। তার সবচেয়ে জটিল ছিলো দুইটি রক্ত নালি ওপেন হার্ট করে বাদ দেওয়া। কারন নালি দুটো ফুলে অকেজো হয়েছিলো। বাল্ব সহ নালি দুটি নতুন করে লাগানো হয়েছে। বেঁচে হয়তো যাবে, কিন্তু পরবর্তি তারজন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হবে পুর্নবাসনসহ কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। অবশ্যই বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে জনি বলেন, অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের ঝালকাঠিতে শিশুরা কাজ করতে পারে এমন কোন মিল ফ্যাক্টরি আজও গড়ে উঠেনি। যদিও দেশের প্রচলিত আইলে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের জানার কথা। পেটের তাগিদে অনেককেই তা করে পরিবারের জিবীকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু আইন তো করে বসে আছেন? ঝালকাঠিতে কাজ বলতে ইটভাটা, লবণ শ্রমিক, জর্দ্দা কোম্পানি বা ফানির্চার এ সকল শিল্পে শিশুরাই কাজ করতেছে। এমন শিশুরা কাজ করলে বেঁচে থাকার কোনই সম্ভাবনা থাকবে না। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর এমন শিশুদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও পুর্নবাসন ব্যাবস্থা করতে পারে। 

সবুজের মা তাছলিমা বেগম জানান, সবুজের ছোট বেলা থেকেই শ্বাস কষ্ট। বড় হবার সাথে সাথে কষ্টও বাড়তে থাকে।  তার কষ্ট দেখে সারেং গ্রুপের স্যারেরা চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সবুজের অপারেশনও হয়েছে। আল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ্য করলে সবুজকে তাদের কাছেই দিয়ে দিবো। আমি মা হিসেবে মাঝে মধ্যে দেখে আসবো। কারণ সবুজকে আল্লাহ তাদের উছিলায় বাচিয়ে রেখেছেন। আমি তাঁদের জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করি। প্রতিবেদকের সামনেই তিনি হাত তুলে চোখের পানি ফেলে দোয়া করেন।

জানাগেছে, শহরতলীর কৃষ্ণকাঠি এলাকার ইট তৈরী শ্রমিক সাইদুল ইসলাম (সাদু) শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে প্রায় বছরখানেক পূর্বে মারা যান। তার মাস তিনেক পরে মেঝো ছেলে বাদলও ১৯ বছর বয়সে একই রোগে মারা যায়। স্বামী ও সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় তাসলিমা বেগম। এ অবস্থায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ তাসলিমার ছোট ছেলে সবুজ। সবুজের বয়স ১৬ হলেও শারীরিক গঠন দেখে মনে হবে তার বয় ৮/৯ বছর। ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সবুজকে চিকিৎসা করানো হলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত তার চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। 

পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ছোট বেলা থেকেই সবুজ হাল্কা শ্বাস কষ্টের রোগী। সাংসারিক অভাবের কারণে তাকে বিভিন্ন স্থানে শ্রমজীবীর কাজ করতে হয়েছে। দিন দিন অসুস্থ্যতা বাড়তে থাকলে স্থানীয় ডাক্তার দেখালে ভারী কাজ করতে নিষেধ করে সবুজকে। এরপর তাকে কাজে দেয়া হয় ফার্নিচার তৈরীর কারখানা সারেং ফার্নিচারে। সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা শুনে মালিকসহ সবাই বিষ্ময় প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য হালকা কাজ করানো হতো সবুজকে দিয়ে। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসা করানোর পদক্ষেপ নেন মালিকপক্ষ। সারেং কোম্পানীর পরিচালক মোঃ শাহ আলম তাকে ঢাকায় নিয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক নাজির উদ্দিনকে দেখান। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হার্টে একাধিক ছিদ্র থাকায় হার্ট বড় হয়ে যাওয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান। সেই অপারেশন ছাড়া তাকে সুস্থ্য করা সম্ভব হবে না। অপারেশন না করলে ৫ভাগ বাঁচারও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়ে দেন চিকিৎসক নাজির উদ্দিন। 

সারেং কোম্পানীর পরিচালক  মোঃ শাহ আলম’র ছোট ভাই জানে আলম জনি জানান, বিস্তারিত বড় ভাইর কাছে শুনে জাতিয় হৃদরোগ হসপিটালের প্রফেসর এবং দেশের ভিআইপিদের স্পেশাল ডাক্তার, তার সাথে পরামর্শ করলে তিনি সার্জন দেখানোর পরামর্শ দেন। এমনটা সচারাচর সার্জনরা পেসেন্ট নাও নিতে পারেন রিক্স আর বয়স ভেবে। তারপরও প্রফেসর ডা.আজম লিখে দিলেন প্রফেসার সার্জন হাসান, ইবনেসিনহা হসপিটাল ধানমন্ডি ১৫ নং সড়ক। পরে তার (সার্জন হাসান) কাছে গেলে তিনি আবার সবুজের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দেন। রির্পোট পেয়ে তিনি বলেন এই ছেলের ফুসফুসের বাল্ব জন্ম থেকেই নাই। যার বদলে হার্ট তাকে পাম্প দিচ্ছে,যা হার্টের জন্য অতিরিক্ত কাজ এবং বাড়তি চাপ। এই পাম্পের কারনে হার্ট বড় হয়ে ফুলে ফুটা হয়ে গেছে তাতে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এঅবস্থায় ১৬/১৭ বছরে রোগী মারা যাবে? যেমন টা রোগির বাবা এবং ভাইয়ের বেলা হয়েছিলো, শেষে বিনা চিকিৎসায় দু’জনই মারা যান। তবে অপারেশন করে একটি বাল্ব বসালে সে ক্ষেত্রে রোগী বেঁচে যেতে পারে নব্বই ভাগ। এটাই ওরজন্য একমাত্র চিকিৎসা। শুনে আশ্বস্ত হলাম। তারপর ডাক্তারকে খরচের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন সবমিলিয়ে তাতে প্রায় চারলাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আটদিন আইসিইউসহ পনেরদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। এতো টাকা এই ছেলে পাবে কোথায়? দুনিয়াতে তার কেউ আছে বলতে আছে শুধু মা,সেও ছেলে-স্বামির শোকে পাগল। বের হয়ে আসার সময় সা রোগির ভিজিটও রাখলেন না ডাক্তার। বড়ভাইকে ফোন দিলাম, মেঝ ভাইকে বললাম এখন টাকার যোগার করেন সবুজ বেচে যাবে? বড়ভাই খুশি হয়ে বল্লেন টাকার চিন্তা করিস না। আমরা সাত ভাই। তোরা ছয়জন দিবি পঞ্চাশ হাজার করে, আমি বড় তাই দিবো একলাখ হয়ে যাবে চারলাখ। কথা শুনে মনে হলো উনি আগেই হিসাব করে রেখেছেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সবুজের অপারেশন সফল হয়েছে।