Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে খামারি লাপাত্তা নীলফামারী

সৈয়দপুরে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে খামারি লাপাত্তা

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারী : নীলফামারীর সৈয়দপুরে শেয়ারে খামারের মালিকানার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ যুবকের প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন মশিউর রহমান হাসু নামের এক পোল্ট্রি খামারের মালিক। মামলা করেও তাই হতাশাগ্রস্ত  প্রতারিতরা ওই খামারিকে বিভিন্ন স্থানে হন্য হযে খুঁজছেন।

জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের পৌর ১০নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাটোয়ারী মাছুয়াপাড়ার মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র মশিউর রহমান হাসু। তিনি গত ৩ বছর ধরে বাড়ির পাশে দুটি পোল্ট্রি খামার চালিয়ে আসছেন। এ দুই খামারে প্রায় ১০ হাজার ব্রয়লার মুরগী প্রতিপালন করতেন। লাভবান হওয়ায় তিনি পরিচিতজনদের উদ্বুদ্ধ করতেন এই ব্যবসায়। তার উদ্বুদ্ধকরণে বন্ধুমহলের ১৫ যুবক তার খামারের শেয়ারের মালিকানায় প্রলুব্ধ হয়ে ধার-দেনা করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। নিশ্চয়তা হিসেবে হাসু প্রত্যেককে বিনিয়োগের পরিমানে টাকার অংক বসিয়ে ব্যাংকের চেক প্রদান করে। এতে বিশ্বাসের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা খামার দু’টি পরিচালনা করতেন। তবে বছর না পেরুতেই হঠাৎ খামারের মুরগি বাজারজাত করে গা’ঢাকা দেয় হাসু। প্রথমে তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন কথা বলে সময় ক্ষেপন করে। এরপর দীর্ঘ ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও তার হদিস না মেলায় মাথায় হাত পরে ব্যবসায়ী অংশিদারদের। তার পরিবারকে চাপ দিয়েও বিনিয়োগ ফেরৎ না পাওয়ায় অনেকে আদালতের আশ্রয় নেয়। তবে প্রতারকের লাপাত্তার কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে  হন্য হয়ে ওই খামারিকে খুঁজছেন।

প্রতারিত বিনিয়োগকারীরা জানান, তার অনেক বড় দুটি খামার আছে। সেখানে অনেক লাভ। ৪৫ দিন কিংবা দু’মাস পর পোল্ট্রি বিক্রি করে সংসার চালানোর মত টাকা আয় হবে। বাড়বে পুজি। এমন সরল বিশ্বাসে এই বিনিয়োগ করা। তবে তার সুচতর দুরভিসন্ধি কেউ বুঝতে পারেনি। তারা আরো জানান, সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের টিটো চৌধুরী ৫ লাখ, আমিনুল মেম্বার ৮ লাখ, মতিয়ার রহমান ৫ লাখ, আব্দুল হান্নান ৭ লাখ, মাসুদ রানা ১০ লাখ, মিতু ১০ লাখ, দুলাল ১০ লাখ, আব্বাস আলী শাহ ৮ লাখ, হিরো চৌধুরী ৫ লাখসহ প্রায় ১৫ জন মিলে ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। তবে কেউ বিনিয়োগে আয় কিংবা আসল পুজি ফেরৎ পাননি। হাসু হঠাৎ তার খামার দুটি বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করে। এতে সকলে দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এদের মধ্যে ৪ বিনিয়োগকারী বিজ্ঞ আমলি আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। আব্দুল হান্নান নামে এক বিনিয়োগকারী জানান, সে আমার অত্যন্ত পরিচিত। তার মালিকানা শেয়ারের প্রলোভনে গত ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৭ লাখ টাকা দেই। ব্যবসায় লোকসান দেখিয়ে টালবাহানা করে। কোন হিসেব দেয়না। এভাবে এক বছর কাটার পর জানতে পারি আমার মত আরো শেয়ারে বিনিয়োগকারী রয়েছে। পরে টাকার জন্য চাপ দিলে সে পালিয়ে যায়। তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি বাড়িটিও তার ব্যাংকে বন্ধক রয়েছে। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করি। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েছে।