Opu Hasnat

আজ ৭ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

নড়াইলে জেলা পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমির ইজারা অন্যায়ভাবে বাতিলের অভিযোগ নড়াইল

নড়াইলে জেলা পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমির ইজারা অন্যায়ভাবে বাতিলের অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়ায় বিধবার নামে বরাদ্দকৃত জেলা পরিষদ’র জমির ইজারা অন্যায়ভাবে বাতিল করে অন্য জনকে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল নড়াইল জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ছোটকালিয়া মৌজার কালিয়া-মির্জাপুর সড়কের পূর্ব পাশে ১৪০ বর্গফুট জায়গা জেলা পরিষদ থেকে শাহানারা পারভীন পিয়ারীর নামে ইজারা দেয়া হয়। যার জেএল নং-৮৯, খতিয়ান নং-৩, এস,এ দাগ নং-০১। শাহানারা পারভীন পিয়ারী কালিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ: সালাম শেখের কন্যা। তিনি ইজারা পাওয়ার পর ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভূমি নবায়ন কর পরিশোধ করেন। ওই জমিতে পিয়ারী ঘর নির্মান কাজ শুরু করেন। ওই দাগের বাকি অংশ একই এলাকার স্বপন কুমার দাসের নামে ইজারা দেয়া হয়। 

পিয়ারী অভিযোগ করে জানান, সম্প্রতি স্বপন কুমার দাস স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা রানার সহযোগিতায় তার নামে ইজারাকৃত জমিতে নির্মানাধী ঘর জড়িয়ে নতুন করে ঘর তৈরির কাজ শুরু করে। স্বপন দাসের ঘর তোলার ব্যাপারে তিনি জেলা পরিষদে অভিযোগ দিতে যান। জেলা পরিষদে গেলে তাকে জানানো হয়, ভূমি নবায়ন কর যথাসময়ে পরিশোধ না করায় তার নামে বরাদ্দকৃত জমির ইজারা বাতিল করা হয়েছে। 

পিয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ইজারা বাতিল করার আগে খাজনা পরিশোধের জন্য জেলা পরিষদ থেকে তাকে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। মাত্র ১ বছরের খাজনা বাকী থাকতে কোন কিছু না জানিয়ে ইজারা বাতিল করা হয়েছে। জেলা পরিষদের অনেক জমির খাজনা বছরের পর বছর বাকী থাকার অনেক নজির রয়েছে। স্বপন কুমার দাস জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের সাথে অবৈধ যোগসাজোশের মাধ্যমে তার ইজারা বাতিল করে নিজ নামে ইজারা নিয়েছেন। বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাসকে জানানো হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেন নি।  পিয়ারী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে স্বপন কুমার দাস জানান, ওই জমি ২২ বছর পূর্বে  কালিয়া পৌরসভা থেকে তারা বরাদ্দ নিয়েছিলেন। জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসের সাথে তাদের পারিবারিক বিরোধ থাকায় ওই জমি তিনি শাহানারা পারভীন পিয়ারীর নামে বরাদ্দ দেন। পরবর্তীকালে জেলা পরিষদ ওই জমি তাকে আবার বরাদ্দ দিয়েছে। 

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস জানান, কোন অন্যায় করা হয়নি। বিধি মোতাবেক স্বপন দাসকে ইজারা দেয়া হয়েছে।