Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

বাগেরহাটে অক্সিজেনের মাত্রা কমে চিংড়ি ঘেরে মড়ক, ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি কৃষি সংবাদবাগেরহাট

বাগেরহাটে অক্সিজেনের মাত্রা কমে চিংড়ি ঘেরে মড়ক, ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় রবিাবর রাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে চিংড়ি ঘেরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্র কমে যাওয়ায় হাজার হাজার ঘেরের গলদা-বাগদা চিংড়ি মাছ মারা গেছে। স্থানীয় চাষীরা সহায় সম্বল টুকু হারিয়ে এখন নিস্ব হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ চাষী এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এই ব্যাপক ক্ষতি কাটিয়ে কিভাবে তারা ঋণ পরিশোধ করবে তাই নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে এসব ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের বিদ্যমান ঋণের সুদ মাফ ও বিনাসুদে নতুন করে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। 

সোমবার একদিনেই ফলতিতা মৎস্য আড়তে মরে যাওয়া চিংড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার। স্বাভাবিক বাজার থাকলে এ মাছ একশ কোটি টাকার উপরে বিক্রি হত বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এছাড়া মাছের রং লাল হয়ে যাওয়ায় অনেকে মাছ ফেলে দিয়েছেন। এতে ওই অঞ্চলের চাষীদের ৩০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন শুধু ফকিরহাট উপজেলা নয় বাগেরহাট সদর, মোল্লাহাট ও খুলনার রুপসা উপজেলার চিংড়ি ঘেরেরও মাছ মারারা গেছে অক্সিজেন কমে।

চিংড়ি চাষীরা বলেন, সকালে উঠে ঘেরের পাড়ে যেতেই দেখি মরা মাছ ভাসছে। পানিতে নেমে দেখি অধিকাংশ মাছ মরে গেছে। এর মধ্যে অনেক মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আড়তে আমরা এক হাজার ১২‘শ টাকা কেজি মূল্যের মাছ মাত্র ২‘শ থেকে ৩‘শ টাকায় বিক্রি করেছি। 

স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেন, হঠাৎ করে ঘেরের চিংড়ি মাছ মরে যাওয়ায় চাষীরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ চাষী এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করত। মাছ মারা যাওয়ায় কিভাবে তারা ঋণ পরিশোধ করবে তাই নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে দাবি এসব ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের সুদ মাফ ও বিনা সুদে নতুন করে ঋণ দেওয়ার জন্য আহবান জানাই।

ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অভিজিত শীল বলেন, হঠাৎ করে বৃষ্টি হওয়ায় ঘেরের পানির অক্সিজেন কমে গিয়ে উপজেলার ৮ হাজার ঘেরের প্রায় ৭০ শতাংশ ঘেরের চিংড়ি মাছ মরে গেছে।