Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

নড়াইলে শিশু মহিমা হত্যার দায়ে দাদা-দাদিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা নড়াইল

নড়াইলে শিশু মহিমা হত্যার দায়ে দাদা-দাদিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামে মাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়ে এবং কোলের শিশু মহিমাকে (২) কেড়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দাদা, দাদী, চাচা ও এক মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে । রোববার রাতে কালিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত মহিমার মা তাছলিমা বেগম। উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামে রোববার এ হত্যার ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানায়, কালিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের হারুনার রশিদের মেয়ে তাছলিমার সাথে হাড়িডাঙ্গা গ্রামের ছাদিয়ার থান্দারের ছেলে মাহামুদ থান্দারের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাহামুদের পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে তাছলিমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই মধ্যে মাহামুদ পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান। স্বামী বিদেশে  কর্মরত থাকার সুযোগে তার স্ত্রী তাছলিমাকে দেবর শামীম থান্দারসহ পরিবারের অন্যরা নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মাহামুদের বাবা ছাদিয়ার ও ভাই শামীমসহ পরিবারের লোকজন তাছলিমাকে বেদম মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি ২ বছরের শিশু কন্যা মহিমাকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় তাছলিমা কালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তসহ শিশু মাহিমাকে উদ্ধার করতে শামীমদের বাড়িতে যান। শিশু মাহিমার খোঁজ জানতে চাইলে বাড়ির লোকজন এলামেলো বথা বলায় পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে পুলিশ মহিমাকে উদ্ধার করে। তাকে কালিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। 

তাছলিমার অভিযোগ তাকে তাড়িয়ে দিয়ে তার শিশুকন্যাকে আসামীরা  যোগসাজোশে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করেছে। শিশু সন্তান হত্যার ঘটনায় মা তাছলিমা বেগম নিহতের দাদা ছাদিয়ার থান্দার, দাদী সামেলা বেগম, চাচা শামীম থান্দার ও কালিয়া সদর বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি পান্নু থান্দারসহ ৮জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ মামলার আসামী ওই গ্রামের বোচা থান্দারের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে। 

কালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকরাম হোসেন জানান, ‘শিশু মাহিমা হত্যা ও তার মা তাছলিমাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ৮জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। রোজিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।