Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

প্রেমিকের জন্য হাত কেটে ৯৯৯ এ অভিযোগ নড়াইল

প্রেমিকের জন্য হাত কেটে ৯৯৯ এ অভিযোগ

নড়াইলে প্রেমিককে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করেছে এক তরুনী। আবার নিজের কাটা ওই হাত দেখিয়ে অপর এক মেধাবী ছাত্রকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামে।

জানা গেছে, আফরা গ্রামের রাফুল ফকিরের মেয়ে তামিমা ইয়াসমিন রীতি (১৬) স্থানীয় আফরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শেণির ছাত্রী। এই অল্প বয়সে সে এলাকার প্রায় আধা ডজন ছেলের সাথে প্রেম করেছে। তার সর্বশেষ প্রেম চলছে একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র শুভ’র সাথে। প্রেমিক শুভকে সে অনেক ভালোবাসে এমন প্রমান দিতে গিয়ে তরুনী রীতি বিদ্যালয়ের ভাঙ্গা জানালার কাঁচ দিয়ে নিজের হাত কেটে শুভ’র নামের প্রথম অক্ষর এস লেখে বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাড়িতে গেলে তার হাত কাটার কারণ জানতে চায় পরিবারের লোকজন। প্রেমের বিষয়টি গোপন রাখতে সে কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপ থাকে। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাকে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সে একই গ্রামের কামাল খানের ছেলে শাকিল খানের নাম ধরে বলে শাকিল তার হাত কেটে দিয়েছে। এতে রীতির পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ৯৯৯ এ কল দিয়ে অভিযোগ দেন। আর ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রীতিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। 

এদিকে তথ্যানুসন্ধানে শাকিলের বাড়িতে গেলে তার বাবা কামাল খান ও প্রতিবেশিরা জানান, শাকিল খান যশোর সিটি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। ঘটনার দিন তার কলেজে একটা পরীক্ষা ছিল। ওই দিন সে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। পরীক্ষা শেষে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরেছে। ছেলের বিরূদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সম্মানহানী করা হয়েছে দাবি করে কামাল খান মিথ্যা অভিযোগকারিদের বিচার দাবি করেন। 

আফরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম জানান, তামিমা ইয়াসমিন রীতি ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। রীতি নিজে বা তার পরিবারের কেউ কোন ঘটনা নিয়ে বিদ্যালয়ে কোন অভিযোগ করেনি। আর শাকিল ওই বিদ্যালয়েরই সাবেক মেধাবী ছাত্র। বিদ্যালয়ে পড়াকালিন সময়ে এবং বর্তমানেও একজন ভদ্র ছাত্র হিসেবে এলাকায় তার অনেক সুনাম। শাকিল অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। শাকিলের ভদ্রতা ও নমনীয়তার কারনে সবাই তাকে ভালোবাসে এবং সাহায্য করে। তার বিরূদ্ধে এমন অভিযোগ কোন ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। 

বিদ্যালয়ের সভাপতি শামছুর রহমান খোকন জানান, রীতি বা তার অভিভাবক বিদ্যালয়ে অভিযোগ না দিলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় এ বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে শাকিলের বিরূদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এদিকে রীতি ও তার পরিবারের সাথে যোগযোগ করা হলে তারা জানান, ৯৯৯ এ কল দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুুমিন তদন্ত করছেন। তদন্ত কর্মকর্তা সহকারি কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুুমিন জানান, তদন্ত চলছে সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।