Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

সেই পিআইও করিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনার করবে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ নড়াইল

সেই পিআইও করিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনার করবে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস.এম.এ করিমের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আচরন বিধিমালা এবং সরকারি কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধি ভংগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই দপ্তরের অফিস সহকারী মো. জিয়াউর রহমান। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পিআইও করিম প্রতিনিয়ত নিজ দপ্তরের অফিস সহকারীকে দিয়ে অফিসের কাজের বাইরেও ব্যক্তিগত কাজ করাতে বাধ্য করতেন। নানা অযুহাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথায় কথায় অশালীন ভাষায় গালাগালি করতেন। এমনকি অধিনস্ত কর্মচারী জিয়াউর রহমানকে কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস না করায় জরুরী অনেক কাজ পেন্ডিং পড়ে আছে। আর যে সব কাজে করে অনৈতিক সুবিধা পান সেইসব কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন পিআইও করিম। 

এ দিকে জিয়াউর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ এক জরুরী সভার আয়োজন করে। সভায় অধিনস্ত কর্মচারীকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করার কারনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিমকে সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ কমিটির পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে অফিস রহকারী জিয়াউর রহমানের নিকট নিশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে  উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশসহ কার্যবিবরনীর কপি প্রেরণ করা হয়। 

এছাড়াও মিথ্য অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিস সুপার এস.এম আইনুল হক ও শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার হুমকি প্রদানের জন্য অবিলম্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা করিমকে শাস্তিমূলক বদলীর দাবি জানান উপস্থিত সদস্যরা। পরে এ বিষয়ে ন্যায় বিচার না পেলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর লাগাতার কর্মবিরতি পালন, পিআইওকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা, মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনসহ কঠিন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত সেওয়া হয়। 

সভায় সমন্বয় পরিষদের উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সুপার এস.এম আইনুল হকের সভাপতিত্বে উপজেলার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর ৫৩ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, পিআইও করিমের অনৈতিক আচারণ, টিআর কাবিখা ও ৪০ দিনের কর্মসৃজনের টাকা অগ্রীম নেওয়ার কারণে লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়াম্যানগণ গত বছর ২৮ এপ্রিল স্থানীয় এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করেছিলেন। অভিযোগ পত্রে জনপ্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, পিআইও করিম প্রায়ই মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকেন। সাধারণ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস.এম.এ করিম বলেন, আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। প্রশিক্ষণ শেষে এলাকায় এসে কথা বলব।
 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর