Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা নিয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপের দ্বারপান্তে ফরিদপুর ফরিদপুর

ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা নিয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপের দ্বারপান্তে ফরিদপুর

ফরিদপুর একটি পুরাতন জেলা ও গোছানো সুন্দর পরিস্কার পরিছন্ন শহর হিসেবে এই শহরে নাম ডাক সারা দেশে রয়েছে। কিন্তু আজ আপনি এই শহরে আসলে বেমালুম সেই পূর্বের চিরচায়িত বনেদি ধারনা বদলাতে থাকবে। এর কারন এখন একটিই সেটি হলো যন্ত্রচালিত দুটি ইজিযানের কারনে। যত্রতত্র এদের অবস্থান সেই সাথে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় হতে টেপাখোলা লেকপাড় পর্যন্ত ভয়াভহ যানযট এখন নিত্য নৈমেত্রিক ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। যেখানে শহরে থাকার কথা হাজারখানেক অটো ও অটোরিক্সা সেখানে রয়েছে ১০ হাজারের অনেক বেশী অটো ও অটোরিকশা। তাদের নেই কোন হাতে কলমে প্রশিক্ষন। তাদের কোন ধরনের প্রশিক্ষন না থাকার কারনে যত্রতত্র ঘটছে দূর্ঘটনা। এতে প্রানহানী ও পঙ্গুত্ব বরন করতে হতে হচ্ছে অনেককে।
 
আর এ ব্যাপারটি ২৪ জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে প্রথম আলাপে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। 

এরপর দুই মাস পরই তিনি গত জেলা আইনশৃংখলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ ব্যাপারে সকলের ঐক্যমতে ঘোষনা করেলেন যানজট নিরসনে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে ফরিদপুর শহরের ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা ও অটোভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে। 

তার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে এরই মধ্যে সাধুবাদ জানিয়েছে সকল শ্রেনি পেশার মানুষ। তাদের দাবি জেলা প্রশাসকের দেয়া এই প্রতিশ্রুতি যেন কোন চাপের কাছে থেমে না যায়।    

এদিকে এরপর থেকে কয়েকদিন ধরে মাইকিংও করা হচ্ছে শহরে। তবে অধিক সংখ্যায় চলা  ইঞ্জিনচালিত অটোর ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা দেখতে চান শহরের বাসিন্দারা।

এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে ইঞ্জিনচালিত অটোর একটি চ্যাট করে দেয়া হবে। তারা নিজ নিজ মহল্লায় নির্দিষ্ট সংখ্যায় চলাচল করবে।  

ফরিদপুর পৌরসভার সূত্র অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার অটোরিকশা শহরতলী থেকে এসে এই শহরে চলাচল করে। ফলে ছুটিরদিন ছাড়া প্রতিদিনই প্রধান সড়কসহ পাড়া মহল্লায় ভয়াবহ যানজট হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই ভাগে তিন হাজার অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া হবে। এরমধ্যে দেড় হাজার ‘এ’ সিরিজের এবং বাকি দেড় হাজার ‘বি’ সিরিজের। একেকদিন একেক সিরিজের অটোরিকশা চলবে। আর ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

ফরিদপুর অটোচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদ মোল্যা লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অটোরিকশাগুলোকে লাইসেন্স প্রদান করা হলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ফরিদপুরের পৌরমেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু সাংবাদিকদের বলেন, জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভার মাধ্যমে আমার উপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা যেকোনো মূল্যে পালন করবো। এখানে পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, ফরিদপুর পৌরসভায় ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশার সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শহরটি যানজটের কবলে পড়েছে। পৌরমেয়র হিসেবে এ অবস্থা আমার পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টকর।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, শহরের যানযট নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান বন্ধে নীতিগত একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে গত আইনশৃংখলা সভায়। এছাড়া যন্ত্রচালিত অটো চলাচলের ব্যাপারেও একটি নিয়ম কঠামো করা হচ্ছে। তাদেরকে নিজ নিজ এলাকায় রং দিয়ে চালাতে হবে। এই রং তার এলাকাকে চিহিৃত করবে। এভাবে যদি আমরা নিয়মের ভিতর নিয়ে আসতে পারি তাহলে আশা করি এই শহরকে আমরা যানযট মুক্ত করতে পারবো।