Opu Hasnat

আজ ১৬ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রামে কবিতা খানম চট্টগ্রাম

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রামে কবিতা খানম

রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও তাদের হাতে স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) তুলে দেয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে ইসির কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের ভোটার না করার বিষয়ে সব রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা, বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেবেন তিনি।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তিও দেয়া হবে। ইসির কর্মকর্তারা দায়ী থাকলে তাদের বরখাস্ত করা হবে। এ জন্য কবিতা খানম এখন সেখানে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দেশের সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসের সার্ভারের বিদ্যমান পাসওয়াড ও কোড নম্বর পরিবর্তন করে নতুন ‘সিকিউরিটি ফিচারস’ সন্নিবেশ করেছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ভোটার তালিকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ দিয়েই রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনসন্ধানে। তবে এগুলো হারিয়ে গেছে না নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে পারেনি দুদক। তাই তারা আরও তদন্ত করছে। ২০১৫ সালের পর থেকে এই ল্যাপটপগুলোর কোনও হদিস নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে অপতৎপরতা রোধে মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যরা জড়িত থাকলে বিভাগীয় মামলা করা হবে।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মাঠ পর্যায়ের সব সার্ভার স্টেশনের নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যাতে কেউ কোনোভাবে কারও বিষয়ে অপতৎপরতা চালাতে না পারে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এনআইডি জালিয়াত চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একই এলাকার একটি ভোটার বইয়ের ৭৪টি নিবন্ধন ফরমের মাধ্যমে অন্তত ৬ জেলার ১৪টি থানা নির্বাচন অফিস থেকে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা হয়। আর এ ঘটনা যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্য কৌশল হিসেবে ওই বইয়ের ফরমে ভোটার করা হয় রোহিঙ্গার পাশাপাশি কয়েকজন প্রকৃত নাগরিককেও। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন- এমন ৪৬ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারে ব্লক করেছে ইসি। আর কিছুদিন আগে নিহত রোহিঙ্গা ডাকাতের কাছ স্মার্টকার্ড পাওয়া যায়। এনিয়ে দেশে তোলপাড় শুরু হয়। 

তদন্তে কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারী রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে যাতে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র না পৌঁছে সে ব্যাপারে আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ডকুমেন্টের ভিত্তিতে অনেক সময় শনাক্ত করা যায় না। ভোটার হতে আগ্রহীদের সঙ্গে সামনাসামনি যদি কথা বলা যায় তবে বাংলাদেশি নাগরিক কিনা সেটি শনাক্ত করা সম্ভব। নির্বাচন কর্মকর্তারা খুবই অ্যালার্ট। অলরেডি কিছু রোহিঙ্গাকে শনাক্তও করেছেন। ২০০৭-০৮ সালে নির্ভুল ভোটার তালিকা উপহার দিয়েছি। নির্বাচন কর্মকর্তারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় আনবে না। জন্মনিবন্ধনসহ অনেক কিছু দেখে ভোটার করা হয়। তাদের সেই সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনারা জানেন রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নেওয়া আছে। সেই কপি আমরা নিয়ে এসেছি। নির্বাচন কমিশনেও বায়োমেট্রিক নিচ্ছি। ভোটার তালিকা করার আগে চট্টগ্রামের বিশেষ এলাকার ক্রসমেসে যদি মিলে যায় তাহলে তারা তো শনাক্ত হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা যদি তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে, তবে তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশনা দিয়েছি। এটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু গ্রেফতারও হয়েছে।

২০১৪ সালে ল্যাপটপ হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তখন মামলা হয়েছে। তদন্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তদন্তের মাধ্যমে যদি দেখা যায় কেউ জড়িত তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় অ্যাকশন আছে। যদি বাইরের কেউ হয় তবে ফৌজদারি অ্যাকশন হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অ্যাকশনের বাইরে কিন্তু ফৌজদারি অ্যাকশনের সুযোগ আছে। তদন্তে যদি দোষী হয়, তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ২১ উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।