Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

চট্টগ্রামে সভায় বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান

পেয়াঁজের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হবে চট্টগ্রাম

পেয়াঁজের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হবে

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ভারতের কয়েকটি জায়গায় বন্যা হলেও এখানে পেয়াঁজের দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদারেরা পেয়াঁজের দাম হঠাৎ করে কেজি প্রতি ২৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে  পেয়াঁজের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে মজুদদারদের চিহ্নিত করে মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকরা নিয়মিত তদারকি করবে।  

সোমবার সকাল ১০টা থেকে  দুপুর ২ টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগনের সাথে সমন্বয় সভা, জেলা প্রশাসকগনের সাথে সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব  সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস পৃথক সভাগুলোর আয়োজন করেন। বিগত সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ  ইনামুল হাসান ও মো: মোজাম্মেল হক। 

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, মাদকসহ  চোরাচালান, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ,  ছিনতাই, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি ও  অন্যান্য  অপরাধ  রোধে সকল সংস্থার কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানীদের  চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকা ও অন্যান্য রুট দিয়ে ইয়াবার পাশাপাশি  জ্বালানী তেল  পাচার  বন্ধে  টাস্কফোর্সের অভিযান দিনে বা রাতে পরিচালনা করা যাবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের বাজারে মিয়ানমার ও ভারতীয় পণ্যে ভরে গেছে। এখানে আমাদের দেশীয় পণ্য তেমন নেই। এসব অবৈধ পণ্য সামগ্রী বাজারজাত বন্ধে বিজিবিকে সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন। অবৈধ পন্থায়  যাতে কোন দেশের পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে নজর  রাখতে  হবে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পাওয়ার সাথে কারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।  টাস্কফোর্সের অভিযান আরো বেগবান করতে বিজিবিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধের কারনে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তির জন্য আদালতের বিচারক, পিপি ও সংশ্লিষ্টদেরকে আরো  আন্তরিক হতে হবে। আমরা সকলে মিলে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মান করতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। 

বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন,  বন্দর, সিডিএ, ওয়াসা, গণপূর্ত, এলজিইডি, সওজ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা, বন, প্রাণী সম্পদ, মৎস্য, সমবায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ প্রতিটি সরকারী দপ্তরের কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হলে প্রত্যেক  কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। যেখানে সরকারের এক টাকার সম্পৃক্ততা আছে, সে টাকা কি হয়েছে, কোথায় যাচ্ছে, সঠিক খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং এর দায়-দায়িত্ব  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিতে হবে। দেশের উন্নয়নে সরকারের যে সকল প্রকল্প চলমান রয়েছে সে গুলোর কাজ যাতে সন্তোষজনক হয় সে দিকে নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক, বিল্ডিং, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য নির্মান কাজ, লোহার পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই কাজ কিছুতেই মেনে নেয়া যাবেনা। সরকারী টাকা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা হবে।  দুর্নীতিতে জড়ানো যাবেনা। আমরা সকলে  সততা, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে দেশ আরো অনেকদুর এগিয়ে যাবে। সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, বন্দর, ওয়াসা, এলজিইডি, সওজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্টানের কার্যক্রম আরো গতিশীলকরনসহ লালখান বাজার টু এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। একইসাথে চট্টগ্রাম নগরীতে একটি স্মৃতিশোধ নির্মান ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ফ্ল্যাট বা আশ্রয়ন কেন্দ্র নির্মান নির্মানের জন্য সিটি মেয়রের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। 

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ইয়াবা শুধু রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আসে তা নয়। টেকনাফ,  নাইক্ষ্যংছড়ি, কুমিল্লা, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসে। আবার রোহিঙ্গারা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে মিয়ানমার পার হয়ে ৪/৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে পুনরায় ক্যাম্পে চলে আসে। রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সীমান্তবর্র্তী এলাকাগুলোতে বিজিবিসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীকে আরো নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। পুজা মন্ডপ গুলোতে কমিটি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেশ বিরোধী চক্র  প্রতিমা ভাংচুর ও পুজা মন্ডপে হামলা করতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিমা তৈরীর স্থানে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। আর পুজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসপি’দেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক,  অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা,  বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, বন্দরের সদস্য (এডমিন এন্ড প্ল্যানিং) মোঃ জাফর আলম, ডিজিএফআই’র পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ ভূইয়া,  অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো: নুরুল আলম নিজামী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান, বিজিবি’র চট্টগ্রাম রিজিয়নের ডেপুটি কমান্ডার কর্ণেল মতিউর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোঃ সামসুদ্দোহা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী অনুপম বড়–য়া, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), তন্ময় দাস (নোয়াখালী), একেএম মামুনুর রশীদ (রাঙ্গামাটি), মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষীপুর), মোঃ কামাল হোসেন (কক্সবাজার), প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস (খাগড়াছড়ি), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), হায়াত-উদ-দৌলা (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক মোঃ সামছুল আলম, ডিসি-ডিবি (বন্দর) এসএম মোস্তাইন হোসেন, রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার নওরোজ হাসান তালুকদার, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মাহবুবুর আলম,  এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ইউসুফ আলী হাওলাদার, আনসার-ভিডিপি’র  উপ-মহাপরিচালক মোঃ সামছুল আলম, কাস্টম কমিশনার এম.ফখরুল আলম, চট্টগ্রামের কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক,  কুমিল্লার কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার  মোঃ মাহাবুবুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর  চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহগাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, বন সংরক্ষক মোঃ আবদুল আউয়াল, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মোঃ আবু সাইদ,  মাউশি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী,  চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ডিআইজি (প্রিজন) এএকএম ফজলুল হক,  গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মোসলেহ উদ্দিন, এলজিইডি’র  অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  এএনএম এনায়েত উল্লাহ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তদরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী  মোঃ জহির উদ্দিন দেওয়ান, কুমিল্লা পাউবো’র তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম, সওজ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খান মোঃ কামরুল আহসান, কুমিল্লা সওজ সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী   রানাপ্রিয় বড়ুয়া, বিসিক চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক বাবুল চন্দ্র নাথ, সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনজুর হাসান, ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল আমিন, যুগ্ম কর কমিশনার সৈয়দ মহিদুল হাসান,  জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা  ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান পাটওয়ারী,   চট্টগ্রাম জেলা পিপি এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চোরাচালান নিরোধ ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী ও  মহানগর পিপি এডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী। পৃথক সভাগুলোতে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।