Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

শোলাকিয়া মাঠের ঐতিয্য রক্ষায় ঈদগাহের ভিতরে মডেল মসজিদ না করার অনুরোধ কিশোরগঞ্জ

শোলাকিয়া মাঠের ঐতিয্য রক্ষায় ঈদগাহের ভিতরে মডেল মসজিদ না করার অনুরোধ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ভিতরে মডেল মসজিদ না করার অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। কিশোরগঞ্জ শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে  রাজনীতির বরপুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি।

রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বলেন, একটা বিষয় আমি বলতে চাই, এটা একটা রিকোয়েস্টের মতো থাকবে আপনাদের কাছে। কারণ এ রকম ফোরাম আবার কবে পাবো এটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে কিশোরগঞ্জের সমস্ত মাথা আজকে উপস্থিত। শুধু বিষয়টা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ রেখে কথাটা আমি বলতে চাই।

আমাদের যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার মাঠ, দুইশ বছরের ঐতিহ্যের মাঠ। এই মাঠ নিয়ে আমরা গর্ব করি। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট এর মানুষ আমাদেরকে বলে কিশোরগঞ্জের ওই মাঠটা আপনাদের এখানে না? আমি বলি, হ্যাঁ এইটা আমাদের মাঠ, আমাদের এখানে। এই মাঠটাতে এখন একটা মসজিদ করার পরিকল্পনা চলছে।

আমি মনে করি এই ঐতিহাসিক মাঠটাকে শুধু মাঠ রাখা যায় কি না, এই বিষয়টি আপনারা পুনর্বিবেচনা করবেন। মাঠের মধ্যে দুই তিন লাখ মানুষ হয়। এর মধ্য থেকে ১ হাজার মানুষকে ছায়ার নিচে নিয়ে লাভ নেই। সবটাই যদি মাঠ থাকে এইটার সৌন্দর্যই অন্য রকম।সেহেতু এই বিষয়টা আপনার এখানে যারা আছেন, সবাই কিশোরগঞ্জের মাথা, কিশোরগঞ্জের কিংরা আছেন এখানে, এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ রেখে গেলাম আমি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি ছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আফজাল হোসেন।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ঐতিহ্য রক্ষার্থে মাঠের ভিতরে মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ না করে অন্যত্র নির্মাণের দাবি জানিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জে জেলা পর্যায়ে ৪৩ শতাংশ জায়গার ওপর এ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।