Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

তাহেরা বানু’র ব্ল্যাকমেইলের শিকার টিআই জুয়েলসহ অসংখ্য মানুষ সুনামগঞ্জ

তাহেরা বানু’র ব্ল্যাকমেইলের শিকার টিআই জুয়েলসহ অসংখ্য মানুষ

ভুয়া আনসার তাহেরা বানুর প্রতারনার শিকার হয়েছেন টিআই জুয়েল, সাবেক জেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সিরাজুলসহ অনেক মানুষ। মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং করাই তার পেশা। আনসার ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। কাউকে আনসারে, কাউকে বীমা কোম্পানী ও কাউকে পেপসি কোম্পানীতে চাকুরী আবার কাউকে ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লাখ টাকা। তাহেরা বানু পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া আনসার আসকর আলীর স্ত্রী। সে গৌরারং এলাকার বাসিন্দা। 

একাধিক সুত্র জানায়, তাহেরা বানু আনসার ভিডিপি’র কোন সক্রিয় সদস্য না হলেও নির্বাচনের সময় খন্ডকালীন ডিউটি করে থাকেন। আর আনসার ভিডিপি’র কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে সৎ ও ভাল কর্মকর্তাদের অন্যায় কাজে সর্ম্পৃক্ত করার হীনস্বার্থে প্রতারনা করে আসছেন। হাছননগর এলাকার ও সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের নৈশ প্রহরী রমজান আলী তার ছেলেকে আনসার ভিডিপি’র চাকুরী দেয়ার নামে তাহেরা বানু ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রায় দুইবছর পূর্বে । কিন্তু চাকুরী দিতে ব্যর্থ হয়ে আনসারের ড্রাইভার পদে ঢোকানোর জন্য আবারও তিন মাসের ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে দেয় সুকৌশলে। ভুক্তভোগী রমজান আলী আনসার ভিডিপি’র জেলা কমানডেন্ট সুনামগঞ্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারে দাবী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আমি দুই বছর আগে আমার ছেলেকে আনসারে চাকুরী দেয়ার নামে তাহেরা বানুকে ৭০ হাজার টাকা দেই । কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার ছেলের চাকুরী না দিয়ে নানান প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছেন। 

এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনকালীন ডিউটিতে নেয়ার জন্য কুরবান নগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী, বদিপুর ও ব্রাম্মাণগাও এলাকার ৩৩জনের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় তাহেরা বানু ও তার সহচর আনফর আলী। টাকা নিয়ে তাদেরকে নির্বাচনের ডিউটিতে ঢুকাতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ভুক্তভোগীরা। পরে সদর উপজেলা টিআই জুয়েলের কাছে বিচারপ্রার্থী হইলে জুয়েল বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং সার্কেল এডজুটেন্ট সাজ্জাদ হোসাইন সেলিমের সভাপতিত্বে গত ৬ জানুয়ারী ২০১৯ এক বিচার পঞ্চায়েত বসেন এবং তাহেরা বানু প্রতারনার মাধ্যমে ৩৩জনের কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় বিচার শালিসের বোর্ড তাকে টাকা ফেরত দেয়ার তাগিদ দেন। এই টাকা ফেরত দিতে একটি শালিস নামাও তৈরী করা হয় এবং টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও এখনও পুরো টাকা ফেরত না দিয়ে আংশিক ফেরত দিয়েছে। এ নিয়ে টিআই জুয়েলের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে যায় প্রতারক ভুয়া আনসার তাহেরা বানু। তারই জের ধরে জুয়েলকে ফাঁসানোর ফন্দি করে প্রতারক তাহেরা বানু। বিভিন্ন সময় জেলা এ্যাডজুটেন্ট অফিসে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন যে, প্রতারক তাহেরার ছেলেকে চাকুরী দেয়ার জন্য টিআই জুয়েলকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন আবার ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। একেক সময় একেক ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। ঐ অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছিল। বিষয়টি জেলা কমান্ডেন্ট জুয়েল ও সার্কেল এডজুটেন্ড এর কাছে তাহেরা বানুর দাবীকৃত টাকার কোন সত্যতা না পেয়ে তাহেরাকে আনসার ভিডিপি অফিস থেকে তাড়িয়ে দেন। জুয়েলকে পরিকল্পিতভাবে নাজেহাল করতে গত ২৭ আগষ্ট জেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রতারক তাহেরা বানু এবং টিআই জুয়েল অফিস থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে উঠার সময় তার ইউনিফর্মের কলারে ধরে টানা হেচড়া করতে থাকে। এসময় জুয়েল আত্মরক্ষার্থে তাহেরা বানুর কাছ থেকে নিজেকে বাচাঁতে ধাক্কা দিলে পার্শ্বের দেয়ালে পড়ে তাহেরা বানুর কপালের উপরের অংশে রক্তাক্ত হয়। পরে তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। এ ঘটনায় তাহেরা বানু ও তার পুত্র আকবর আলী একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছেন। আর বলছেন ৫ লাখ টাকা না দিলে টিআই জুয়েলের চাকুরী খাবে এবং মামলা আপোষ করা হবে না। তাহেরা বানু’র ৫ লাখ টাকার দাবী পুরণ না করায় শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির চেস্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। 

এ ব্যাপারে টিআই জুয়েল জানান, তাহেরা বানু আমার অফিসের কোন স্টাফ নয় কিংবা চাকুরী করেন না বা কোন সদস্যও না। অফিসের মহিলা আনসার পরিচয় দিয়ে সহজ সরল মানুষকে চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ টাকা। প্রতিদিনই তার বিচার শুনতে হয়। আমি তাহেরা বানুকে আমার অফিসের দ্বারে কাছে না আসতে বাধা নিষেধ দেই এবং আমি এসব পাত্তা না দেয়াই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। ২০১০ সালে তৎকালীন জেলা আনসার-ডিভিপি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ভুইয়াকে ব্ল্যাকমেইলিং করে ২ লাখ টাকা দাবী করেছিল এই তাহেরা বানু। পরে মান সম্মানের ভয়ে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে বাধ্য হন। তাহেরা বানু’র নিজস্ব কোন আয় রোজগার নেই বললেই চলে। প্রতারনার মাধ্যমে মানুষকে ঠকানোই তার পেশা। 

এ ব্যাপারে তাহেরা বানু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি কাউকে প্রতারণার মাধ্যমে কোন টাকা নেইনি। আমার পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে টিআই জুয়েল আমাকে মারপিট করেছে। ভুক্তভোগীদের ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিচার সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন। 

এ ব্যাপারে জেলা কমানডেন্ট মো: আমিন উদ্দিন জানান, তাহেরা বানু আমার অফিসের কোন স্টাফ না এবং সে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে আনসারে চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রতারনার বিষয়টি শুনেছি। হাছননগর এলাকার বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ মহিলা সরকারী কলেজের নৈশ প্রহরী রমজান আলীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে।