Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

বিরল রোগে আক্রান্ত কালকিনির প্রতিবন্ধি মিলন মাদারীপুর

বিরল রোগে আক্রান্ত কালকিনির প্রতিবন্ধি মিলন

আমার জীবটাই হচ্ছে যন্ত্রাময়। এতটা ব্যাথা নিয়ে বাস করা আমার জন্য কঠিন। এদিকে ডান পায়ে সমস্য, ঠিকমত হাটতে পারিনা। খুড়িয়ে-খুড়িয়ে হাটতে হয় আমার। অন্যদিকে আমার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায়  চুলকানির সঙ্গে অনেক ভোগান্তি তো রয়েছেই। এরপর হাটতে গেলে শরীরটা অনেক ভারী ভারী লাগে। যে কেউ আমাকে দেখে দূরে সরতে চেষ্টা করে। রাস্তায় হাটতে পারিনা। আমার সঙ্গে কেউ কথা বলতে চায়না। ছোট বাচ্চারা যখন আমাকে দেখে, তারা শুধু ভুত বা দৈত্য বলে দৌড় দিয়ে পালায়। 

বিরল রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার লামচরী গ্রামের দুই সন্তানের জনক দিনমজুর মোঃ মিলন হাওলাদার (৪০) ক্ষোভের সঙ্গে এ কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, আমি কাজ ছাড়া খুব বেশি একটা বাহিরে বের হইনা। শিশুসহ অনেকে দেখলে আমাকে ভয় পায়। এক সময় আমার এ অবস্থা ছিলনা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগ বেড়ে গেছে। আজকাল আমার ছেলে গোলাম রাব্বানী আমার সাথে ঠিক মত কথা বলেনা। আমি জানি, কেন সে এমন করে, তবে আমি আমার ছেলে মেয়ে বা পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারছিনা। আমি খুব খারাপ বোধ করি, রাতে চিন্তায় ঘুমাতে পারিনা। মিলন হাওলাদারের বয়স যখন ১০ বছর  তখন তার মাথায় উপর একটি ছোট গুটি দেখা যায়। আস্তে-আস্তে তা গত ৩০বছরে শরীরের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে গুটিগুলো। মুখ বিকৃত হওয়ায় ঠিক মত খেতে পারেন না স্বাভাবিকভাবে। এ কারনে এখন ঠিকমত চোখে দেখতে প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে। চলাচলে অনেক কষ্ট হয় তার। আগে বিভিন্ন রকমের কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন এখন সেটাও পারেননা। বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করালেও অর্থভাবে উন্নত চিকিৎসার অভাবে সুস্থ হননি। এ ছাড়া তিনি প্রতিবন্ধি হয়ে তার কপালে জোটেনি একখানা প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড। এ নিয়ে তিনি অনেকবার  ধরনা দিযেছিন স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে। স্ত্রী নূরজাহান, এক ছেলে গোলাম রাব্বাী ও এক মেয়ে সাদিয়াকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন চলে তার। ছেলে মেয়েকে লোখাপড়া করাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ রোগটি থেকে মুক্তি পেতে চান দিনমজুর প্রতিবন্ধি মিলন হাওলাদার।

মিলন হাওলাদারের স্ত্রী নূরজাহান বলেন, আমার স্বামীর মাথা থেকে শুরু হওয়া এ রোগের বিস্তার দিন দিন ভয়ংকার হওয়ার  পর্যায়গুলো আমি কাছ থেকে দেখেছি।  কিন্তু আর্থিক অভাবে  তার চিকিৎসার ব্যবস্থ্য করতে ব্যর্থ হয়েছি। বিভিন্ন কবিরাজী ওষুধ খাওয়াইছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এবং কি আমার স্বামীর কপালে আজ পর্যন্ত একটি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ডও জোটেনি। আমরা কিভাবে এখন পরিবার নিয়ে বাঁচবো। 

ভাতার কার্ডের বিষয় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেজবাউল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধি মিলন হাওলাদারকে কাগপত্র নিয়ে আসেতে বলেছি। তাকে ভাতার কার্ড করে দেয়া হবে।

এ বিরল রোগের বিষয় জানতে চাইলে কালকিনি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএম) মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ওই রোগী চিকিৎসার জন্য যদি আমাদের হাসপাতালে আসে তাহলে পরীক্ষা করে বলতে পারবো আসলে তার কি রোগ। আমি তার বিষয় পুরোপুরো না দেখে বলতে পারবোনা।