Opu Hasnat

আজ ২২ নভেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

ছাতক প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল জনবল সংকটে নিষ্প্রাণ

গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিপাকে স্থানীয়রা কৃষি সংবাদসুনামগঞ্জ

গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিপাকে স্থানীয়রা

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে চিকৎিসা সেবায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাণীসম্পদ অফিসের ৮টি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লক্ষাধিক হাঁস মুরগী ও গবাদিপশু। 

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মোরগ, কোয়েল, কবুতরসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর মালিক ও ক্ষুদ্র খামারীরা। এদিকে এ উপজেলায় ৩টি পশু উন্নয়ন কেন্দ্র থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনটিই ডাক্তার বিহীন পড়ে আছে। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসকে ম্যানেজ করে ধারন বাজার সংলগ্ন সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভবনে দীর্ঘদিন যাবৎ হূমায়ুন নামের এক হাতুড়ে পশু ডাক্তার স্ব-পরিবারে বসবাস করে আসছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল দুরে থাকার কারনে আবার অনেকেই চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এই হাতুড়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন। কিন্ত ভুল চিকিৎসায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন গবাদি পশুর মালিকেরা অভিযোগ। সরকারী ভবনে স্ব-পরিবারে বসবাস করে কোন প্রশিক্ষন ছাড়াই ডাক্তার সেজে অবাদে চালিয়ে যাচ্ছেন ঔষধ বানিজ্য এবং হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা এই কথিত পশু ডাক্তার। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে ১১টি পদের মধ্যে ৮টি পদ-ই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারী কম্পাউন্ডার ও এফএএআইসহ তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারি দিয়ে চলছে এই হাসপাতালের কার্যক্রম। তালিকাভুক্ত গরু, মোরগ ও হাঁসের খামার, গবাদিপশুর সংখ্যা এবং উপজেলায় তিনটি উন্নয়ন কেন্দ্র বিষয়ে জানতে পর পর তিনদিন মুঠোফোনে যোগাযোগাযোগ করা হলে কোন তথ্যই দিতে পারেন নি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। অফিস সহকারী না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বার বার তিনি পরে কল দিতে বলছেন।  

জানা যায়, এ হাসপাতালে কৃত্তিম প্রজনন, ছাগলের ঠান্ডা কাশিসহ ভ্যাক্সিন দিতে এক সময় প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১২০ জন বিভিন্ন সেবা নিতেন। বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে খামারি ও গবাদি পশুর মালিকরা। এ ছাড়াও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসা এবং ৩জন কর্মকর্তা কর্মরত থাকা অবস্থায় খামারিরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও বিগত  প্রায় ৬ বছর ধরে ভেটিরিনারী সার্জন ছাড়াই চলছে এই সরকারী পশু হাসপাতাল ভবনে সেবা কার্যক্রম। এলাকায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু থাকার পরও সেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসকের অভাবে গবাদি পশুর মালিকেরা ছুটছেন হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। আর তাদের গলাকাটা ফি’র শিকার হচ্ছেন সাধারন মানুষ। কতৃপক্ষের অসচেতনা ও অবহেলায় আগ্রহ হারাতে বসেছেন গবাদি পশু পালনকারীরা ও অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে এই হাসপাতালটির সরঞ্জামাদি।

এ ব্যাপারে সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানরত হূমায়ুন বলেন, আমি নিয়োগপ্রাপ্ত না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষন নিয়েছি। ছাতক উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানেন আমি এই বাসায় আছি। অপর প্রশ্ন করা  হলে তিনি বিকেলে কথা বলবেন বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 

এ ব্যাপারে হূমায়নের মামা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ নাম পরিচয় দিয়ে বলেন, সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আমি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে মৌলভী বাজার ডেপুটেশনে আছি। ওই বাসাটি বর্তমানেও আমার নামে বরাদ্ধ রয়েছে। আমি মৌলভী বাজার আসার পর থেকে হূমায়ন সেখানে থাকছে। তিনি আরো বলেন, বাসাটি পরিত্যাক্ত পড়ে থাকলে অপরাধীরা আশ্রয় কেন্দ্র করে নিবে।

 ছাতক উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ মাসুদ করিম ছিদ্দিকী বলেন, এখানে ১১টি পদের মধ্যে ৮টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারী নেই। আমরা তিনজন বিপুল জনগোষ্ঠির প্রাণী সম্পদ চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় তিনটি উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। তবে কোন চিকিৎসক কর্মরত নেই। ধারন বাজার সংলগ্ন সৈদেরগাঁও উন্নয়ন কেন্দ্রে হুমায়ুন নামে যে একজন ডাক্তার পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সরকারী বাসা ব্যাবহার করছেন কার অনুমতি নিয়ে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আচ্ছা আমি দেখতেছি।  

 সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. হাবিবুর রহমান খাঁন ডেপুটেশনে থাকা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বর্তমানে একজন ডাক্তার, একজন  ভেটেরিনারী কম্পাউন্ডার ও একজন এফএএআইসহ তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, যে তথ্যগুলো জানতে চেয়েছেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নিকঠ থেকেই পাবেন। অবৈধভাবে যদি কেউ সরকারী বাসা ব্যাবহার করে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।