Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাখান চট্টগ্রাম

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাখান

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রোববার থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রথম দিন প্রত্যাখ্যান করেছে বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য  পরিষদসহ সাধারণ জনগণ। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে সকাল থেকে দুর পাল্লার বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, কর্ভাডভ্যান, প্রাইমমুভার, ট্যাংক  লরিসহ হাজার হাজার গণ ও পণ্য পরিবহন অবাধে চলাচল করেছে। সকাল ১০টার দিকে নগরীর নিমতলা ও চট্টগ্রাম  বন্দরের  দুটি গেইট দিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলে বাঁধা দেয় ধর্মঘট আহবানকারীরা। পরে ধর্মঘট বিরোধী  বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতিরোধের মুখে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর পর থেকে নগরীসহ কোথাও  গণ ও পণ্য পরিবহন চলাচলে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। পরে ৯ দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে সংগঠনটি। রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান আন্দোলনরত সংগঠন চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আলহাজ্ব আবদুল নবী লেদু, সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ফ্ল্যাটবেড ওনার্স এসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হাশেমসহ নেতৃবৃন্দরা ধর্মঘটের বিরুদ্ধে বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেন। কথিত সংগঠন কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুমকির প্রতিবাদে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে  সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেনে  চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। 

বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ নামে নাম সর্বস্ব সংগঠনটি দীর্ঘ দির ধরে পরিবহন সেক্টরে বিশৃংখলা সৃষ্টি ও চাঁদাবাজিসহ  গাড়ীর পারমিট প্রদানের নামে মালিকদের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে  লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কথিত এ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। একইসাথে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও  বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে তারা। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে প্রশাসনের যৌক্তিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাতে ৯ দফা দাবী নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গতকাল রোববার থেকে বৃহত্তর  চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহবান করে। ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করে  বিভিন্ন গণ ও পণ্য পরিবহনের মালিক-শ্রমিকেরা  স্ব স্ব গাড়ী নিজেরাই রাস্তায় বের করে। পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধাচারন ও  সরকারের উন্নয়ন বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে পরিবহন চলাচলে বাঁধা দিলে  তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্মঘট আহবানকারীদের  প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আলহাজ্ব আবদুল নবী লেদু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাহসী কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় থেকে  পরিবহন সেক্টরে  নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা দুর করে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।  সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করতে  কতিপয় নাম সর্বস্ব  পরিবহন সংগঠন  মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সর্বত্র গুজব ছড়াচ্ছে এবং  কোন কারণ ছাড়াই ধর্মঘট আহবান করেছে। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, কথিত সংগঠনের দাবীর বিষয়ে কোন ধরনের আলোচনায় না বসতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মেট্টোপলিটন এলাকাসহ সকল জেলা-উপজেলায় গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সকল মালিক-শ্রমিক স্ব স্ব গাড়ী নিজেরাই রাস্তায় বের করবে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের নামে যদি কেউ রাস্তায় বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাহলে চট্টগ্রাম বিভাগের গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকগণ তা শক্তহাতে প্রতিরোধ করা হবে । 

এদিকে আন্দোলনরত সংগঠন চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো পূরণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তার আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ সূত্র জানায়, তাদের ৯ দফা দাবি হলো- গণ ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ করা, জরিমানা মওকুফের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করা, বিআরটিএ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগ করে গণ ও পণ্য পরিবহনে কোনও অতিরিক্ত জরিমানা আদায় না করা, হাইওয়ে ও থানা পুলিশ কর্তৃক গাড়ি জব্দ ও রিকুইজিশন বন্ধ করা, চট্টগ্রাম মেট্টো-এলাকায় গাড়ির ইকোনোমিক লাইফের অজুহাত দেখিয়ে ফিটনেস ও পারমিট নবায়ন বন্ধ না রাখা, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক যান্ত্রিক ক্রুটিযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্যকোন অজুহাত দেখিয়ে গণ ও পণ্য পরিবহন টু বা ডাম্পিং না করা, ড্রাইভার কর্তৃক চালিত গাড়ির রেকার ভাড়া আদায় না করা, সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা ও কাগজপত্র হালনাগাদের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি বন্ধ করা। এদিকে ধর্মঘটের কারণে নগরে গণপরিবহন সংকট দেখা দেয়। ফলে চাকরীজীবী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। তবে বেলা বাড়ার বাড়ার সঙ্গে রাস্তায় গণপরিবহনের দেখা মেলে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর