Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

শৈলকুপা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি চরমে! ঝিনাইদহ

শৈলকুপা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি চরমে!

শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান ফটকে ঝুলছে দুর্নীতি ও হয়রানী বিরোধী সাইনবোর্ড। আছে গ্রাহককে প্রলুদ্ধ করা কত বিলবোর্ড আর স্টিকার। অথচ এর আড়ালেই চলছে গ্রাহক হয়রানীর মচ্ছব। গ্রাহক হয়রানি, অনিয়মিত সেবা, অবৈধ জরিমানা আদায়, ভূয়া বিল তৈরি, রাতের আধারে ট্রান্সফরমার সরিয়ে কৃত্রিম জনভোগান্তি সৃষ্টি করে গ্রাহকদের নিকট থেকে অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় জমলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না গ্রাহকরা। ফলে তারা নিরুপায় হয়ে দুদক অফিসে অভিযোগ করেছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাকিমপুর ইউনিয়নের বাদাপাড়া গ্রামের আকবার আলী নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতেন। মোবাইলে তার ম্যাসেজ রেকর্ড আছে। গত জুলাই মাসে অফিসের লাইনম্যান বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করার সিস্টেম নেই এই অজুহাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কাঁচেরকোল ইউনিয়নের উত্তর কচুয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মাসুদ রানার নিকট থেকে ইজিবাইক চার্জ দেওয়ায় মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

কীর্ত্তিনগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার বাড়িতে পানির মটর গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করা হয়। দুই মাস আগে গরুর গোয়াল পাইপ দিয়ে পরিস্কার করার সময় অফিসের লোকজন এসে সাইড লাইনের অজুহাত দেখিয়ে জরিমানা আদায় করেন। নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের ভান্ডারী পাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন নিজের ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার কারণে তার মিটারটি আবাসিক থেকে বানিজ্যিক করা হয়। সেই থেকে প্রায় তিন বছর নিয়মিত ইজিবাইক চার্জ ও বাণিজ্যিক হিসাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছিল। গত ৩১ জুলাই হঠাৎ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন এসে মতিনের বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারটি খুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে মৌখিক ভাবে ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বলেন। 

গত ২৮ আগস্ট মতিন এ নিয়ে ঝিনাইদহ অফিসে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করায় শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ কামরুজ্জামান ক্ষুদ্ধ হয়ে জরিমানা হিসেবে ৬৯ হাজার ৯শ ৪৪ টাকা আদায়ের জন্য নোটিশ দেন। এ ভাবে শৈলকুপার গ্রাহকদের হয়রানী করে শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। 

বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ কামরুজ্জামান জানান, শৈলকুপায় কোন গ্রাহক হয়রানী হচ্ছে না। প্রতিটি পদক্ষেপ আইন মোতাবেক হচ্ছে। তাছাড়া ভান্ডারীপাড়া গ্রামের আঃ মতিনের মিটার থেকে বাইপাস করে ইজিবাইক চার্জ দেয়া হতো বলে সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক মিটারে কেনো ইজিবাইক চার্জ দিতে পারবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন রেখে দেন।