Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০১৯,

ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে পাটের আবাদ কম হলেও পাটকাঠির কদর বেশি কৃষি সংবাদনীলফামারী

সৈয়দপুরে পাটের আবাদ কম হলেও পাটকাঠির কদর বেশি

নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সৈয়দা রুখসানা জামান শানু : নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবছর পাটের আবাদ কম হলেও পাটকাঠির কদর বেড়েছে। উপজেলার সর্বত্র পাটের চেয়ে পাটকাঠির ক্রেতা ও দাম উভয় বেশি। জানা যায়, এ বছর উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বোতলাগাড়ি ও বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের অল্প সংখ্যক জমিতে পাট চাষ করা হয়। রোগ-বালাই ছাড়া এবারে পাটের ফলনও হয় ভালো। কিন্ত দীর্ঘ খরা ও বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে নানা সমস্যায় পড়েন চাষিরা। ফলে পাটের মান খুব একটা ভালো হয়নি। এ কারণে নিম্মমানের এসব পাট এক হাজার ৮শ’ থেকে এক হাজার ৯শ’ টাকা মন (কেজির ওজনে) দরে বিক্রি হচ্ছে। 

উপজেলায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির দাম ও কদর দুটোই বেড়েছে। গৃহস্থালি বিভিন্ন প্রয়োজনে পাটকাঠি পল্লী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘরের বেড়া, জ্বালানিতে ব্যবহৃত হয় পাটকাঠি। এছাড়া সবজি যেমন, পালং শাক, টমেটো, বরবটি, চিচিঙ্গা ডাটা, মুলা প্রভৃতি শষ্য ক্ষেতের বেড়া এবং লাউয়ের মাচা তৈরিতে প্রয়োজন হয় পাটকাঠির। সৌখিন ও স্বচ্ছল পরিবারের ঘরের সিলিং তৈরিতে পাটকাঠি ব্যবহার হয়ে থাকে। 

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ও মহল্লায় ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা একেকটি পাটকাঠির আঁটি ১০/১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। পাটকাঠির বহুল ব্যবহার হয় জ্বালানি হিসাবে। রান্নার কাজে উনুনে আগুন ধরাতে গৃহিনদের কাছে পাটকাঠির বিকল্প নেই। এ কারণে কৃষকরা এখন পাট বিক্রি করে পাটকাঠি সঞ্চয় করতে দেখা যায়। অপরদিকে তারা পাটকাঠি বিক্রয় করে পাট চাষের অনেকটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে। 

কৃষকরা জানায়, সোনালী আঁশ বাজারজাতকরণে ও পাট জাগ দিতে পানি সমস্যা এবং দাম না পাওয়া প্রভৃতি কারণে পাটের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া পাটজাত পণ্য ব্যবহার না হওয়ায় চাহিদাও কমেছে পাটের। শুধুমাত্র জ্বালানি হিসাবে ব্যবহারের জন্য সামান্য কিছু জমিতে কৃষকরা পাটের চাষ করেছেন। কৃষকরা বর্তমানে বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। 

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক এমাজ উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘প্রতেক বারে পাট নিয়া হামার ডেন্ডারা, এবছর পাট কাটার পর খরা অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে খড়ি হইছে, তারপরও শেষত দেওয়ার (আকাশের) পানি হওয়ায় পাট জাগ দিয়া পাটের রঙ নষ্ট হইছে, কিন্ত জলার (জ্বালানির) জন্য সিন্ডা (পাটকাঠি) পাছি’।