Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

খাগড়াছড়িতে স্ত্রী-শিশু হত্যা : স্বামীর মৃত্যুদন্ড, সহযোগীদের যাবজ্জীবন খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে স্ত্রী-শিশু হত্যা : স্বামীর মৃত্যুদন্ড, সহযোগীদের যাবজ্জীবন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদন্ড ও দুইজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে স্বামী ছাবের আলীকে (২৯) মৃত্যুদন্ড ও ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একইসঙ্গে হত্যাকান্ডে সহযোগিতার দায়ে ছাবের আলীর বাবা মো: মাহবুব আলী (৫৪) ও মা রেনু আরা বেগমকে (৪৯) যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ির জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো: আলমগীর হাসান এই মামলার রায় প্রদান করেন। এসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার অপর আসামি মো: শাহজাহানের (২৪) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট বিধান কানুনগো জানান, ২০১৬ সালের ২২মার্চ রাতে গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মাজেদা বেগম ও ছয় মাসের পুত্র সন্তান রিদোয়ান আহম্মেদকে শ্বশুর-শ্বাশুরীর সহযোগীতায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী মো: ছাবের আলী।

রাষ্ট্রপক্ষের ১৬জন সাক্ষীর সাক্ষ্যতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধি ৩০২ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আসামী মো: ছাবের আলীকে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া দন্ডবিধি ৩৪ধারায় সহযোগীতার দায়ে শ্বশুর মো: মাহবুব আলী ও শ্বাশুরী রেনু আরা বেগমকে যাবজ্জীবন ও ১০ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এই মামলার অপর আসামী মো: শাহজাহান নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয় আদালত। রায়ে সন্তোষ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও নিহতদের স্বজনরা।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২মার্চ খাগড়াছড়ির গুইমারার বড়পিলাক এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মাজেদা বেগমকে(২২) ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ও ৬ মাসের শিশু সন্তান রেদোয়ানকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি মিলে মাজেদা বেগমকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল বলে মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়।

ঘটনার পর নিহত মাজেদা বেগমের বাবা মো: সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে স্বামী ছাবের আলী, তার বাবা মাহবুব আলী, মা রেনু আরা বেগম ও ভাই শাহজাহানকে আসামি করে গুইমারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলা চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৬জনের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করে। মামলার প্রায় সাড়ে ৩ বছরের মাথায় আদালত রায় ঘোষণা করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিধান কানুনগো রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এ রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মহিউদ্দিন কবির রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে দাবি করেন। রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপীলে যাবেন বলেও জানান তিনি।