Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

রাজবাড়ীতে পাওয়ার টিলার চালিয়ে স্বাবলম্বী ৯ কৃষানী কৃষি সংবাদরাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে পাওয়ার টিলার চালিয়ে স্বাবলম্বী ৯ কৃষানী

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বড় কানাবিলা গ্রাম। এ গ্রামের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের জীবন জিবিকা চলে কৃষি কাজ করে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছে সমান তালে। তারা পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে করছেন অনেক শ্রমযুক্ত কাজও। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়ার টিলারসহ সিডার মেশিন দ্বারা কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ফিরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। 

স্বাবলম্বী ওই নয় কৃষানী হলো, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বড় কানাবিলা গ্রামের দিপ্তি রানী, নিভা বাড়ৈই, মিতা বাড়ৈই, কনিকা মন্ডল, সুনীতা মন্ডল, অঞ্জলী বিশ্বাস, দিপ্তি রানী রায়, প্রমীলা, বিথি রায়।

বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন অফিসারের কার্যালয় থেকে এই নয় কৃষানীকে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষন । তারা এখন সকলেই সিডার যন্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী। কিন্তুু সিডার যন্ত্র চালাতে প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। তাই তাদের চাওয়া ছিলো সুইচ দ্বারা সিডার যন্ত্র চালানো যায় এমন একটি মেশিনের। তাদের পাশে দাড়িয়েছে আর্ন্তজাতিক ভুট্টা ও গম  উন্নয়ন কেন্দ্র ( সিমিট ) বাংলাদেশ ফরিদপুর হাব।

সোমবার সকালে আর্ন্তজাতিক ভুট্টা ও গম  উন্নয়ন কেন্দ্র ( সিমিট ) বাংলাদেশ ফরিদপুর হাব এর উদ্যোগে বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বড় কানাবিলা এলাকায় ওই নয় কৃষানীর মাঝে সিডার মেশিনের মেকানিক্যাল স্টার্টার কিট বিতরন করা হয়েছে।

মেকানিক্যাল স্টার্টার কিট বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর রাজবাড়ীর উপ-পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান, কৃষি গবেষনা ইন্সিটিটিউট ফরিদপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম আহম্মেদ, বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, সিমিট বাংলাদেশ ফরিদপুরের কো-অর্ডিনেটর হিরা লাল নাথ, কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম জসিম উদ্দিন, কৃষি যন্ত্রপাতি উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ শাহাবুদ্দিন শিহাব প্রমুখ। 

এ সময় বড় কানাবিলা গ্রামের কৃষানী দিপ্তি রানী জানান, সিডার মেশিন চালাতে ও এর হেন্ডেল ঘুরাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেক সময় কাপর হেন্ডেলের সাথে পেচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতো। এখন সিডারের সাথে এই স্লুইচ লাগানোতে কষ্ট কমবে পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমে যাবে।

সুনীতা মন্ডল নামে অপর এক কৃষানী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ পুরুষের পাশাপাশি মাঠে কৃষি কাজ করি। আমরা সকলেই সিডার মেশিন চালাতে পারি। আমাদের নিজেদের সিডার মেশিন আছে। এই সিডার মেশিন দিয়ে আমরা আমাদের গ্রামের জমি চাষ করে আয় করি। এতে আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। 

আর্ন্তজাতিক ভুট্টা ও গম  উন্নয়ন কেন্দ্র ( সিমিট ) বাংলাদেশ ফরিদপুর হাব এর কৃষি যন্ত্রপাতি উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, কৃষানীদের পরিশ্রম কমাতে ও সিডার যন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহী এবং কৃষিকে যান্ত্রিকীকরনের লক্ষ্যে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালঞ্জ জেলার ২৫ জন কৃষানীর মাঝে পর্যায়ক্রমে মেকানিক্যাল স্টার্টার কিট বিতরন করা হবে। এতে কৃষিতে তারা আরো বেশি বিপ্লব ঘটাতে পারবে।