Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

কালকিনিতে ১৬ বছর ধরে ক্লাস না করে বেতন নিচ্ছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক ! মাদারীপুর

কালকিনিতে ১৬ বছর ধরে ক্লাস না করে বেতন নিচ্ছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক !

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কোলচরী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মোশারফ হোসেন তালুকদার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মাদ্রাসায় ক্লাস না করে বেতন তুলে নিচ্ছেন। ওই শিক্ষক বরিশালে গ্যাসের ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। তিনি মাঝে মধ্যে মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদকে ম্যানেজ করে চলে যান। চোখের সামনে এ ধরণের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকায় এলাকায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন তালুকদার ২০০৩ সালের মার্চ মাসে কালকিনির লক্ষীপুর ইউনিয়নের কোলচরী দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর কয়েকদিন ক্লাস করে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদকে ম্যানেজ করে বরিশাল গিয়ে গ্যাসের ব্যবসা শুরু করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মাদ্রাসায় ক্লাস না করে মাসে- মাসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন তুলে আবার চলে যান। তার এ বিষয়টি সাবেক এবং বর্তমান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত আছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা এখনো বিষয়টি গোপন রেখে তার বেতন সিটে নিয়মিত স্বাক্ষর করে বেতন তুলতে সহায়তা করছেন। এদিকে শিক্ষার্থীরা এ কারনে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে যানাযায়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, আমার পরিবর্তে আমি অন্য এক লোককে দিয়ে ক্লাস করাই। বেতন আমি তুলে তাকে দিয়ে দেই। 

মাদ্রাসার সহকারী সুপার মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয় আমি আপনাদের সাথে পরে কথা বলবো।

মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ফোরকান আহমেদকে মোবাইলে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলেন আমি পরে কথা বলবো এবং এ কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। 

কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শিক্ষক মোশারফ হোসেন অনিয়ম করায় তার বিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল । পরে সে মাদ্রাসা সুপারের কাছে আবেদন করায় পরে বিল ছেড়ে দেয়া হয়। সে আর অনিয়ম করবেনা বলে মাদ্রাসা সুপারের কাছে লিখিত দেন। 

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমি এ বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।