Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

দীঘিনালায় সেনা অভিযানে ৩ ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, অস্ত্র উদ্ধার খাগড়াছড়ি

দীঘিনালায় সেনা অভিযানে ৩ ইউপিডিএফ সদস্য নিহত, অস্ত্র উদ্ধার

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বড়াদমে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপপন্থি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সেনাটহলের গুলিবিনিময় হয়েছে। ঘটনার পরে দীঘিনালা উপজেলায় সেনা চিরুনী অভিযান চালালে ৩জন ইউপিডিএফ কর্মী নিহত হয়। সোমবার সকাল ১০টায় দীঘিনালার বড়াদম এলাকায় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের সদস্য দীঘিনালার বেতছড়ির ধন্যসেন চাকমার ছেলে নবীন জ্যোতি চাকমা(৩৮), ইন্দ্রমনি পাড়ারর তঙ্গারাম চাকমার ছেলে ভুজেন্দ্র চাকমা(৫০) ও হাচিনসনপুর এলাকার সুজিত প্রিয় চাকমার ছেলে রুচিল চাকমা ওরফে রাসেল(২৬)। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র।

পুলিশ বাহিনীর স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সেনাবাহিনীর টহল দল নিয়মিত অভিযানে গেলে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এরা সবাই প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফের সদস্য। 

খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের এএসপি রওনক আলম জানান, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর ১২টায় তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদ্ধ থানায় আনার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের লাশ খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আহমার উজ্জামান বলেন, ‘গুলিবিনিময়ে দীঘিনালার দুর্গম গ্রামে তিনজন নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি লাশ উদ্বার করে ময়না তদন্তে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের খাগড়াছড়ি জেলার সংগঠক অংগ্য মারমা জানান, নিহতরা সবাই ইউপিডিএফ সদস্য। এ ঘটনাকে রাষ্ট্র কর্তৃক ইউপিডিএফ’র চলমান বর্র্বরতা হত্যা রাজনৈতিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে অ্যাখ্যা করে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

আইনশৃঙ্খলা ও সেনা বাহিনী সূত্র জানায়, সোমবার সকালে দীঘিনালার বড়াদম এলাকায় একটি আস্তানায় ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের ৭-৮জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী অভিযানে যায়। এসয় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। সেনবাহিনীও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১৫মিনিট বন্দুক যুদ্ধ হয়। সেনাবাহিনীর সাথে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনের ইউপিডিএফ’র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় আমেরিকার তৈরী একটি এম-৪ অটোমেটিক কার্বাইন ও ২টি পিস্তলসহ ১২রাউন্ড গুলি ও ইউপিডিএফ’র চাঁদা আদায়ের রশিদ বই উদ্ধার করা হয়।সোমবার (২৬ আগস্ট) সকালে এই ঘটনা ঘটে। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের(আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।