Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সহ কর্মকর্তা কর্মচারী সংকট! স্বাস্থ্যসেবাদিনাজপুর

পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সহ কর্মকর্তা কর্মচারী সংকট!

পার্বতীপুরে ডাক্তার সংকটের কারণে ও সরঞ্জামাদির অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে এলাকাবাসী কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। এই উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ৩৪ জন ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু আছেন মাত্র পাঁচ জন। একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, একজন ডেন্টাল সার্জন ও এমবিবিএস ডাক্তার তিনজন। এখানে ১০ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন বর্তমানে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। বাকী ২৯ জনের পদে কোন ডাক্তার নেই। এর মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনী বিশেষজ্ঞ, নাক, কাণ ও গলা বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, সার্জারী বিশেষজ্ঞ, এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার তিন জনের মধ্যে একজন আছেন, আই,এম,ও উল্লেখযোগ্য। হাসপাতালে দুইজন ফার্মাসিষ্ট থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। কোন হিসাবরক্ষক নেই। ফার্মাসিষ্ট না থাকায় নার্সদের দিয়ে ফার্মাসিষ্টের কাজ করানো হচ্ছে। ফলে ঔষুধ সরবরাহের নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি ২০০৭ সাল থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালে ই,সি,জি মেশিন থাকলেও কোন এক্সপার্ট নেই। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন আছে তবে কোন টেকনিসিয়ান নেই। 

হাসপাতালে কোন চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। তবে দুইজন অপথার্মিক নার্স কে ভারতের অরবিন্দু হাসপাতাল থেকে চক্ষু চিকিৎসার বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত হয়ে এ হাসপাতালে “ভিষন সেন্টার” নামে চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ কাজে কর্মরত নার্সদ্বয় জানান, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনেক রোগী আসেন। কিন্তু আমরা ৩০ জনের বেশী রোগী দেখতে পারি না। আমরা চিকিৎসা পত্র দেই, অপারেশনের প্রয়োজন হলে বাহিরে যাবার পরামর্শ দেই। এ ভিষন সেন্টারে একজন আয়া, একজন পিয়ন ও স্টাফ বাড়ানোর দরকার বলে তারা জানান।

মানুষের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৮টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, পার্বতীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাবড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নুরুল হুদা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শেরপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রাজারামপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, আমবাড়ী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যশাইহাট উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও দাগলাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, বেলাইচন্ডী ইউনিয়ন, রামপুর ইউনিয়ন, চন্ডিপুর ইউনিয়ন, হামিদপুর ইউনিয়ন ও হরিরামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। এগুলোর কোনটিতেই ডাক্তার নেই। সহকারীদের দ্বারাই কেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এমারজেন্সিতেও কোন মেডিকেল অফিসার না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সহকারীরাই দায়সারা কাজ সেরে বাহিরের কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে বলেন। এর মধ্যে অনেক রোগী টাকার অভাবে কোন ক্লিনিক বা বড় হাসপাতালে যেতে পারেন না। হাসপাতালে সরকারি ভাবে কোন কোন ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় তার কোন তালিকা নেই। যে সব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন, তাদের প্রায় ঔষধ ও স্যালাইন বাহির থেকে কিনে নিতে হয়। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া আহত বা নিহতদের মামলার জন্য সার্টিফিকেট দিতে পারছেন না। ফলে থানা পুলিশের নিকট দায়ের করা মামলা সমূহের চার্জশীট প্রদানে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। হাসপাতালে নার্স সহ মিডওয়াইফ রয়েছেন ২৬ জন। তারাই প্রসূতিদের সেবাদান করছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহেল মাফী ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে  জানান, আমরা প্রতি মাসের প্রতিবেদনে ডাক্তার সংকটের কথা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানাই। কিন্তু কোন ডাক্তার ও স্টাফ পাচ্ছি না। এ হাসপাতালে ১ম শ্রেনীর ৩৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে আছেন ৫ জন, ২য় শ্রেণীর ২৭ জনের মধ্যে আছেন ২৬ জন, ৩য় শ্রেণীর ১১৯ জনের মধ্যে আছেন ৮২ জন এবং ৪র্থ শ্রেণীর ৩০ জন কর্মচারীর মধ্যে ১৭ জন কর্মরত আছেন। অচিরেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এখানে ডাক্তার ও অন্যান্য স্টাফ দিবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।