Opu Hasnat

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

চুয়াডাঙ্গায় ডাবল মার্ডার চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় ডাবল মার্ডার

চুয়াডাঙ্গার আমিরপুরে ঘুরে ঢুকে সুমাইয়া খাতুন (১৩)নামে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টাকালে বাধা দেয়ায় ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রীর মামা নিহত হয়েছেন। এসময় প্রতিবেশিরা ছুটে এসে ওই বখাটেকে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শনিবার ভোর রাতে চুয়াডাঙ্গার আমিরপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্রীর মামা হাসানুজ্জামান একই গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে এবং গণপিটুনীতে নিহত আকবর হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। এঘটনায় গুরুতর আহত বাড়ির মালিক হামিদুর রহমান এবং সুমাইয়া খাতুনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হামিদুর রহমানকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। 

পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদরে আমিরপুর রেলগেট পাড়ার হামিদুর রহমানের বাড়িতে বখাটে আকবর হোসেন ঢুকে তার নানতি সুমাইয়া খাতুনকে (১৩) শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। এ সময় ওই স্কুলছাত্রীর চিৎকারে নানা হামিদুর রহমান (৫৫) ও মামা হাসানুজ্জামান (৩২) ছুটে এসে আকবরকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় বখাটে আকবরের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামিদুর রহমান, হাসানুজ্জামান ও স্কুলছাত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। তাদের চিৎকারের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বখাটে আকবর হোসেনকে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত গুরুতর আহত হামিদুর, হাসানুজ্জামান ও সুমাইয়া খাতুনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কত্যর্বরত চিকিৎসক হাসানুজ্জামানকে মৃত ঘোষনা করেন। হামিদুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.কলিমুল্লাহ , সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ও পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, নিহত আকবার বাড়িতে ঢুকে সুমাইয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানা হেঁচড়া করলে সে চিৎকার করে কান্নাকাটি করে। এই সময় মামা হাসান ও নানা হামিদুল ছুটে আসলে আকবর তিনজনকেই ছুরিকাঘাত করে। আহত তিনজনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে পথিমধ্যে হাসান মারা যায়। আহত হামিদুলকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর