Opu Hasnat

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

রাজবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন কৃষি সংবাদরাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন

আবহাওয়া অনুকুৃলে থাকায় এ বছর রাজবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক। তবে কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে আরো বেশি লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজবাড়ীতে গত বছর ১১৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছিলো। এ বছর রাজবাড়ীতে ১১৬৭ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।  যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হেক্টর বেশি। এ বছর আবাদ হওয়া জমি থেকে ২ হাজার ৩ শত ৩৪ মেট্টিক টন মরিচের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার খামার মাগুরাডাঙ্গি গ্রামের কৃষক ইমান আলী শেখ। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন, তিনি জানান, প্রতিবিঘা মরিচ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। আর এক বিঘা জমিতে যে মরিচ পাওয়া যাবে তা বিক্রি হবে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান এখন প্রতি ১০ দিন পর পরই মরিচ তোলা যাচ্ছে। বাজারে দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। 

খামার মাগুরা ডাঙ্গি গ্রামের কৃষক  মোঃ রশিদ মিয়া জানান, এই এলাকায় কৃষি অফিসের কোন লোকজন কখনই মাঠে আসেন না, দেন না কোন পরামর্শ। সঠিক পরামর্শ পাওয়া গেলে মরিচ চাষে আরো লাভবান হওয়ার কথা জানান তিনি।

কৃষক রিয়াজ শেখ জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষি পন্য উৎপাদনে সুনাম রয়েছে। কিন্তু এই এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় পন্য পরিবহনে খরচ হয় বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে কৃষকেরা আরো লাভবান হতে পারতো। তিনি আরো বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজার থেকে আমাদের গ্রাম খামার মাগুরাডাঙ্গি গ্রামে এক বস্তা সার আনতে বাড়তি একশত টাকা ভ্যান ভারা দিতে হয়। কারন আমাদের এই রাস্তাটি এখনও কাচা মাটির সামান্য বৃষ্টিতে হাটাই যায় না।  

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজারের কাচা মরিচ ব্যবসায়ী  হানিফ বেপারী জানান, রাজবাড়ীর মরিচ এখানকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, নাভারুনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে মরিচ এক হাজার থেকে এক হাজার ৩ শত টাকায় কেনা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর রাজবাড়ীর উপ পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, মরিচের প্রধান শত্রু হচ্ছে পানি। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মরিচের চাষ ও ফলন দুটিই বেড়েছে। মরিচের রোগ জিবানু সম্পর্কে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরামর্শ।