Opu Hasnat

আজ ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

শাল্লার ৬টি পরিবারে হামলা ভাংচুর, গ্রেফতার ৭ সুনামগঞ্জ

শাল্লার ৬টি পরিবারে হামলা ভাংচুর, গ্রেফতার ৭

গত ১০ মার্চ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল আমীন চৌধুরীকে নৌকা প্রতিকে ভোট না দেয়ায় তার কর্মীসমর্থরা প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ই আগষ্ট উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাপুর গ্রামের শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলী, তার সহোদর শফিকুল ইসলামসহ তাদের ৬টি পরিবারের বসতবাড়িতে। এ ঘটনায় শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলীর ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ১৫ই আগষ্ট ফয়জুল্লাপুর গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ওছন আলীর ছেলে শরিফ উদ্দিন গংদের আসামী করে শাল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ আল আমীন চৌধুরীকে নৌকা প্রতিকে ভোট দেননি ফয়জুল্লাপুর গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঐ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আলী ও তার স্বজনেরা। এই নির্বাচন নিয়ে চেয়ারম্যানের কর্মী সমর্থক একই গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও শরিফ উদ্দিন গংরা প্রতিশোধ নিতে গত ১৪ আগষ্ট শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় দাড়াঁলো অস্ত্র রামদা বল্লম লোহার রড নিয়ে আব্দুল আলী, সহোদর শরিফুল ইসলাম সহ তাদের স্বজন ৬টি পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা এই ৬টি বাড়ির আলমারী ভেঙ্গে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ১২লাখ টাকাসহ অর্ধশতাধিক গরু নিয়ে যায়। এ সময় দাড়াঁলো অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষক আব্দুল আলীর স্ত্রী তজ্জতুন নেছা গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশ গত ১৫ই আগষ্ট মামলার ৭জন আসামীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফয়জুল্লাপুর গ্রামের গাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে মোঃ কাউসার মিয়া, আবুল মোতালিবের ছেলে দুদু মিয়া, তার সহোদর সুজন মিয়া, খোকন মিয়া, সাজু মিয়ার ছেলে মোরশিদ কামাল, বাচ্ছু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আজির হামজার ছেলে মোঃ ফুল মিয়া। 

এ ব্যাপারে বাদিপক্ষের আগত তজ্জতুন নেছা জানান, আমরা জন্মসূত্রে আওয়ামীলীগকে সমর্থন করে আসছি। কিন্তু  গত ১০ মার্চের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল আমীন চৌধুরীকে নৌকা প্রতিকে ভোট না দিয়ে আওয়ামীলীগের ঘরানার স্বতন্ত্রপ্রার্থী এড. অবণী মোহন দাসকে ভোট দিয়েছিলাম। এই ভোট দেয়ার অপরাধে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলার আগে বিভিন্নভাবে প্রাণে মারার হুমকি দামকী দিয়ে আসছিল। আমরা এখনো তাদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি বলেও তিনি জানান। 

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে জানান গত ১৪ আগষ্ট ঈদের পরের দিন জয়জুল্লাপুর গ্রামের আমীর হামজার ছেলে মোঃ জয়নাল মিয়া পুরান বাজার থেকে পায়ে হেটে নতুনবাজারে যাওয়ার পথে মামলার বাদি পক্ষের বড়ভাই শিক্ষক আব্দুল আলীর ছেলে মোঃ আরাফাত মিয়া জয়নালের উপর হামলা চালায় এবং দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এই ঘটনাটি দেখে আামর ছোটভাই ইমরান হোসেন এগিয়ে এসে বাধা দিলে আরাফাত আমার ভাইয়ের উপর ও হামলা চালায় এবং আহত করে বলে জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, মামলার বাদি বিবাদি আপন ভায়রা, শ্যালক, সমদ্বি তাদের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের পিআইসির টাকা পয়সা নিয়ে মূলত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে হামলা ও মামলা মোকদ্দমার চলে আসছিল। তবে বিষয়টি পুলিশ নজরধারীতে রেখেছে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে।