Opu Hasnat

আজ ২২ নভেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

দোলারবাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় সরকারী নির্দেশ উপেক্ষিত! সুনামগঞ্জ

দোলারবাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় সরকারী নির্দেশ উপেক্ষিত!

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপেক্ষিত হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা, শোক দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও এ মাদরাসায় শোক দিবসের কোন কর্মসূচী পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারীভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হলেও কার স্বার্থে এবং কেন পালন করেনি তার সদুত্তর কেউ দিতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কয়েক ব্যক্তি জানান, জাতীয় শোক দিবস পালনের আলোকে সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করা অপরাধের শামিল। অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালনা কমিটি ও সুপারের শাস্তির দাবী করেন। 

জানা যায়, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্ত এ মাদরাসায়  জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি। এমন কি প্রতিষ্ঠানটি তালাবন্ধ ছিল স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বারগোপি গ্রামের আব্দুল কাহার বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হলেও এ মাদরাসায় কোন কর্মসূচী পালন করা হয়নি। মাদরাসাটি জামায়াতে ইসলামের দখলে চলে গেছে। পরিচালনা কমিটিও গোপনে করা হয়েছে। মাদরাসার প্রিন্সিপাল ২ বৎসর সাসপেন্ড ছিলেন। পরে কিভাবে আসলেন জানিনা।

কল্যানপুর গ্রামের আপ্তাব উদ্দিন বলেন,  এ ঘটনাটি সত্য এটা স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্বের চেতনা বিরোধী কাজ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জনগণ ও সরকার কতৃক সকল সুবীদা ভোগ করে মুক্তিযোদ্বের চেতনা বিরোধী কাজ করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

 একই গ্রামের জুনেদ বলেন, জাতীয় শোক দিবসে মাদরাসায় কোন অনুষ্ঠান হয়নি। এমনকি পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি। আমারা মাদরাসার দপ্তরিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে বলেছে তাকে কেউ কিছু বলেননি। নজরুল ইসলাম বলেন, শোক দিবসে এ মাদরাসায় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি। শুধু তাই নয় বর্তমান সভাপতি বিপুল অংকের টাকা বিতরনের মাধ্যমে জালিয়াতি করে সভাপতি হয়েছেন।

 মাদরাদাসার দপ্তরি আব্দুল মছব্বির বলেন, আমি মাদরাসার দায়িত্বে না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।  মাদরাসার প্রিন্সিপাল জোনাইদ আহমদ বলেন, শিক্ষকগণ ঈদের ছুটিতে থাকার কারনে আমি একা পালন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীরা আসেনি।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন আইনানুগ ব্যাবস্থা নিন। আমার কিছু করার নাই।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া মছলু বলেন, আমি সুপারকে শোক দিবস পালন করার জন্য বলেছি। কেন করা হয়নি বিষয়টি জানিনা। তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। 

ছাতক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পুলিন রায় বলেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুখে মুখেও বলা হয়েছে। এমনকি আমাদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজেও নির্দেশনা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ পরিচালনা কমিটি দিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের কর্মসুচি পালন না করার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর