Opu Hasnat

আজ ৭ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

বড়াইগ্রামে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ নাটোর

বড়াইগ্রামে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

নাটোরের বড়াইগ্রামে সাড়ে চার বছর বয়সী এক কণ্যাশিশুকে ধর্ষণ করে পালিয়েছে পঞ্চাশোর্ধ এক লম্পট। ওই লম্পটের নাম হোসেন আলী। সে উপজেলার জোয়াড়ি আটঘরি গ্রামের মৃত লুলু সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন হোসেন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রেরণ করেছেন। 

শিশুটির বাবা পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, লম্পট হোসেন আলীর শ্বশুর বাড়ি তাদের বাড়ির পাশে। সে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলো। হোসেনের খারাপ চরিত্র থাকায় স্ত্রী’র সাথে প্রায়ই তার ঝগড়া ও অশান্তি  লেগে থাকতো। এক পর্যায়ে গত বছর তার স্ত্রী গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। হোসেনের এক মেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে চকলেট ও খেলনা কিনে দেওয়ার কথা বলে  শিশুটিকে  সে কোলে করে তার খালি বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে তাকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটির মা শিশুটিকে খুুঁজতে গেলে হোসেনের বাড়ির পাশে তাকে পায়। পরনের প্যান্টটি ভিজা দেখতে পেয়ে শিশুটির মা জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি সব ঘটনা খুলে বলে। এ সময় ‘এ কথা কাউকে বললে শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলবে’ বলে হোসেন আলী হুমকী দেয়। পরবর্তীতে রাতে শিশুটির বাবা বাড়িতে ফিরলে এ ঘটনা খুলে বলে তার মা। সকালে এ বিষয়ে গ্রাম প্রধানদের জানালে গ্রাম প্রধানেরা তা মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনাটি গ্রাম প্রধানদের জানানোর অপরাধে হোসেন আলীর শ্যালক দেলোয়ার হোসেন সকালেই শিশুটির বাবাকে মারধর করে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিবেশী কেউ একজন ৯৯৯-এ ফোন করে জানালে বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক, নারী পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেন ও  এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করে।  

পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন হোসেন জানান, এ বিষয়ে অতি দ্রুত যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।