Opu Hasnat

আজ ৭ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

পাল্টা প্রতিশোধেই নগরকান্দার ডাবল মার্ডার, ঘাতকসহ আটক ৩ ফরিদপুর

পাল্টা প্রতিশোধেই নগরকান্দার ডাবল মার্ডার, ঘাতকসহ আটক ৩

প্রতিশোধ পাল্টা প্রতিশোধের কারনেই ফরিদপুরের নগরকান্দায় ২ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় আহত হয় আরো ১০জন। এদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় গোলাম মাওলাকে ঢাকা পাঠানো হয় রাতেই।

এদিকে পুলিশ ঘটনার পর পরই ঘাতকসহ ৩ জনকে মাদারীপুর জেলার মাওয়া ঘাট এলাকা থেকে আটক করেছে। তাদেরকে আটক করে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় রাতেই। এছাড়া এ ঘটনায় আজ নিহতের পরিবার থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, শনিবার বিকালে নগরকান্দা উপজেলার বাবুর কাইচাইল গ্রামে যুবলীগ নেতা হানিফ ও তার ভাই হাসান গুলি চালিয়ে ২জনকে হত্যাসহ ১০ জনকে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত গোলাম মওলার অবস্থাও আশঙ্কা জনক বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন, রওশন আলী মিয়া (৫২) ও মিরাজুল ইসলাম তুহিন (২৫)। 

এ ঘটনায় আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০) ও আবুল কালাম (৩৫), আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হতাহতরা সবাই কাইচাইল মধ্যপাড়া মাদ্রাসা এলাকায় বাসিন্দা। এদের মধ্যে রওশন আলী মিয়া ফরিদপুর শহরের জেলা পরিষদ অগ্রণী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

প্রায় বছর দুই আগে মহিদুল হত্যা কান্ডের জের ও পারস্পারিক দ্বন্দ্বের প্রতিশোধ নিতেই এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। মাহিদুল হত্যা সংঘটিত মামলার পর থেকে হানিফ ও হাসান গং এলাকায় ঢুকতে পারছিল না। হানিফ ঢাকায় অবস্থান করে ঝুঁট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো। দীর্ঘদিন পর শনিবারই তারা এলাকায় প্রবেশ করে। হানিফ ও হাসান বাবুর কাইচাইল গ্রামের মোসলেম মাষ্টারের পুত্র।

স্থানীয় রেজাইল নামে একজন জানান, কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ওরফে ঠান্ডুর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয়ের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ওই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে হানিফের সমর্থক মহিদুলকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ঠান্ডু ও তাঁর সমর্থকদের মামলায় আসামি করা হয়। এতে বিরোধ আরো বাড়ে।

সংঘর্ষের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, হানিফ মিয়া ও তার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া শনিবার একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসেন। তাঁরা স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শরত তাঁর সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং দশজন আহত হন।

তবে হানিফ ও হাসান মিয়ার পক্ষের লোকজন দাবি করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। হানিফ মিয়া হৃদয় ও তাঁর ভাই হাসান মিয়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে শনিবার বিকেল ৫টায় কাইচাইল মধ্যপাড়া মাদ্রাসা এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় কবির হোসেন ঠান্ডুর চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক তাঁদের বাধা দেন এবং গাড়িতে হামলা চালান। একপর্যায়ে হানিফ মিয়া তাঁর কাছে থাকা শর্টগান দিয়ে এলোপাতারি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্ত্যবরত চিকিৎসক শাহিন মামুন রওশন আলী মিয়া ও তুহিন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।

নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশ মোতাবেক এবং এএসপি এফএম মহিউদ্দিন স্যারের নেতৃত্বে ঘটনার মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হই। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হানিফ ওরফে হৃদয়, সহযোগী তাপস ও গাড়ী চালক ছত্তারকে শর্টগান ও গুলিসহ আটক করি। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহতের বিষয় নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল দশটার দিকে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ দুটি হস্তান্তর করা হবে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কাচাইল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবার বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে স্থানীয় লোকজন।