Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

নাড়ির টানে নিজ গ্রামে ছুটছে মানুষ মুন্সিগঞ্জ

নাড়ির টানে নিজ গ্রামে ছুটছে মানুষ

নাড়ির টানে প্রমত্তা পদ্মা নদী পারি দিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি ছুটেেছ মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষের এখন  স্রোত প্রধান ফেরিঘাট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ীতে। তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার সকাল অব্দি এ ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আছে পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী যান। পদ্মা পারাপারে ছোট-বড় নৌযানেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ছিল উপচে পরা ভীর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, শিমুলিয়া ঘাটে ঈদ ঘরমুখো যাত্রীরা প্রচন্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় গত তিন দিন পদ্মায় উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। শুক্রবার-শনিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় একটু সময় লাগলেও ফেরি চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গত তিন দিনের চাপ এসে পড়েছে শিমুলিয়া ঘাটের এক, দুই ও তিন নম্বর ঘাটে। 

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. নাসির জানান, শুক্রবার ভোর থেকে শুরু করে শনিবার সকাল পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। দুপুরে ঘাট এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় রয়েছে। চারটি রো রো-সহ ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পার করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, একসঙ্গে গাড়ি আসতে শুরু করায় ফেরিতে লোড-আনলোড করতে একটু সময় লাগছে। শনিবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক চার শতাধিক ছোট গাড়ি পার করা হয়েছে। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আব্দুল আলিম জানান, পদ্মায় তীব্র ঢেউ এবং বৈরী আবহাওয়া নেই। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ১৭টি ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। সকাল থেকে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায় ঈদে গাড়ির চাপ সামাল দেওয়া গেছে। ভোগান্তি ছাড়াই চলাচল করছে যাত্রীরা। এখান থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পৌঁছাতে কম সময়ের কারণে যাত্রীদের আগ্রহ বেশি সিবোটে। সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ অব্যাহত লঞ্চ ও সিবোট ঘাটে। 

জেলার লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটেও যাত্রীর বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। লঞ্চে-সিবোটে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।