Opu Hasnat

আজ ২৫ আগস্ট রবিবার ২০১৯,

বৈরি আবহাওয়ায় দৌলতদিয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত রাজবাড়ী

বৈরি আবহাওয়ায় দৌলতদিয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে ভোগান্তি বেড়েছে নৌরুটে। বৈরি আবহাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়ায় আট কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। অপর দিকে নদীর পাটুরিয়া প্রান্তে দীর্ঘ্য হচ্ছে ঘরমুখো যানবাহনের সাড়ি। 

বিআইডব্লউটিসি কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ২০ টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে ১৭ টি ফেরি চলাচল করছে। 

বিআইডব্লউটিএ কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নদীর দুই প্রান্তে ১১ টি ঘাট সচল রাখা হয়েছে। এছারাও যাত্রী পারাপারে ৩৪ টি লঞ্চ চলাচল করছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহা সড়কের খানখানাপুর এলাকা পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকায় জানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই সাড়িতে আটকে পড়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। তবে আটকে পড়া যানবাহনের মধ্যে অন্তত ৪০০ কোরবানির পশুবাহি ট্রাক রয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে জানজট আরো বাড়বে বলে মনে করছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় রয়েছে দুই শতাধীক যাত্রীবাহি বাস, তিন থেকে চারশত প্রাইভেটকার ও মাইক্রোস বাস রয়েছে অন্তত ৫ শত পন্যবাহি ট্রাক।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি ও ঝড়ো বাতাস থাকায় লঞ্চগুলো কখনও বন্ধ আবার কখন সচল থাকছে। আর ফেরিগুলোকে নদী পার হতে সময় লাছে দ্বিগুন।

দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে থাকা গরু বহনকারী ট্রাকের চালক আলম মোল্লা বলেন, বুধবার রাত একটার সময় দৌলতদিয়া ঘাটে জানজটে পরেছি। এখন বাজে সাড়ে ১১ টা। ঘাট আরো দুই কিলোমিটার দুরে। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা লাগবে ঘাট পার হতে। সারা রাত ঘাটে বসে থেকে কষ্ট করতে হয়েছে। এছারাও সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ভীজে গরুগুলো অসুস্থ্য হয়ে পরছে। কর্তৃপক্ষের উচিৎ গরুর গারীগুলোকে অগ্রাধীকার দেওয়া।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের সুপার ভাইজার শাকিল আহম্মেদ বলেন, পনের ঘন্টা ঘাটে বসে আছি। আমাদের গাড়ির যাত্রীরা নেমে লঞ্চে চলে গেছে। এখন খালি গাড়ি নিয়ে যাত্রী আনতে ঢাকায় যাচ্ছি। কখন ঘাট পার হবো বলা যাচ্ছে না।

কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী সহিদ শেখ বলেন, আমরা প্রতি বছরই ঢাকায় ব্যবসা করার জন্য গরু নিয়ে যাই। এ বছরের মতো এত ভোগান্তি আর কখনও হয়নি। ১৫ টি গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। সবগুলো গরু বৃষ্টি ভিজে দুর্বল হয়ে গেছে। আল্লাহ জানে কপালে কি আছে। আবার গরুর যে খাবার নিয়ে আসছিলাম তা বৃষ্টিতে ভীজে যাওয়ায় পশুগুলোর খাবারের কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা ফরিদপুরগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সুপার ভাইজার নাছির বলেন, আমরা মানিগগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে বসে ছিলাম চার ঘন্টা। এরপর নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগলেও এখন লাগছে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট। ফেরিগুলোকে অনেকটা ঘুরে আসতে হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে পরিদর্শনে এসে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, এ বছর আমরা ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছিলাম। কিন্তুু বৈরি আবহাওয়ায় ব্যঘাত হচ্ছে পারাপার। আমরা ঘাট এলাকায় আড়াই শত পুলিশ দিয়েছি। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে অভিযান চলছে। মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে এই নৌরুটে পন্যবাহি ট্রাক পারাপার বন্ধ করা হয়েছে। অগ্রাধীকার ভিত্তিতে যাত্রিবাহি বাস ও কোরবানির পশুবাহি ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে। 

বিআইডব্লউটিসি আরিচা সেক্টরের উপ মহা ব্যবস্থাপক আজমল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই। নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় ফেরিগুলো ঘাটে পৌছাতে সময় লাগছে বেশি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৭ টি ফেরি চলছে। দ্রুত আরো ৩ টি ফেরি বহরে যুক্ত হবে। ২০ টি ফেরি চলাচল করলে আর কোন জানজট থাকবে না।

বিআইডব্লউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল সমস্যা থাকায় ওই নৌরুটে সব যানবাহন দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে আসছে। একরুট দিয়ে দুই রুটের যানবাহন পারাপার করা সম্ভব নয়। এর উপর শুরু হয়েছে বৈরি আবহাওয়া। এছাড়াও এখন প্রতিদিন অন্তত ছয় শত কোরবানির পশু বাহি বাড়তি ট্রাক পার করতে হচ্ছে যে কারনে ঘাট এলাকায় জানজট তৈরি হচ্ছে।