Opu Hasnat

আজ ২৫ আগস্ট রবিবার ২০১৯,

না ফেরার দেশে সুষমা স্বরাজ, বিভিন্ন মহলের শোক আন্তর্জাতিক

না ফেরার দেশে সুষমা স্বরাজ, বিভিন্ন মহলের শোক

না ফেরার দেশে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনিয়র বিজেপি নেতা সুষমা স্বরাজ।

মঙ্গলবার রাতে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এআইআইএমএস) হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে রাত সোয়া দশটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঐ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নেয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই মারা যান তিনি।

সুষমা স্বরাজের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০১৬ সালে তার কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল। অসুস্থতার কারনে এবার তিনি মোদির সরকারে থাকেননি। 

ভারতের কংগ্রেস এক টুইট বার্তায় সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

এদিকে, সুষমা স্বরাজের হঠাৎ মৃত্যুতে সারা ভারত শোকে স্তব্ধ। বিজেপির কার্যকরি সভাপতি জেপি নাড্ডা জানান, দুপুর ১২টার দিকে সুষমা স্বরাজের মরদেহ দলের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে লোধীপুর ঘাটে। তিনি আরও জানান, তাঁর মৃত্যুতে বিজিপির আজকের সকল কর্মসূচী বন্ধ রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শেষকৃত্যে হাজির থাকতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দিন সকালেই সুষমার বাসভবনে যান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, লালকৃষ্ণ আডবাণী, মনমোহন সিংহ, সনিয়া গাঁধী এবং রাহুল গাঁধী-সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুষমার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মোদী টুইট করেন, ‘ভারতীয় রাজনীতির একটা গৌরবময় অধ্যায় শেষ হয়ে গেল।’ এ দিন অমিত শাহ বলেন, “ওঁর মৃত্যু সারা দেশের রাজনীতির পক্ষে অপূরণীয় ক্ষতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে সারা বিশ্বে দেশের খ্যাতি বাড়িয়েছেন সুষমা।”  

প্রয়াত নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এ দিন তাঁর বাসভবনে যান বিজেপি নেতা মুক্তার আব্বাস নকভি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল, উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া, বিএসপি নেতা রামগোপাল যাদব, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। 

অরবিন্দ কেজরীবাল বলেন, “ভারত এক মহান নেতাকে হারাল। সুষমাজি খুব ভাল মানুষ ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। তাঁকে ১৯৯০ সাল থেকে জানি। আমাদের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, সংসদে আমরা একসঙ্গে অনেক ভাল সময় কাটিয়েছি।এক জন ভাল মানুষ, রাজনীতিক ছিলেন।”

সুষমার মৃত্যুর খবর পেয়েই মঙ্গলবার রাতে এইমস-এ যান রাজনাথ সিংহ, নির্মলা সীতারামন, রবিশঙ্কর প্রসাদ, স্মৃতি ইরানি, হর্ষবর্ধন, প্রকাশ জাভড়েকরের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতারা। রাতেই সুষমার মরদেহ যন্তরমন্তর রোডের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। 

সুষমার বাড়িতে যান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সান্ত্বনাও দেন তিনি। রামনাথ কোবিন্দ ছাড়াও সেখানে গিয়েছিলেন বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতী, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডি এবং যোগগুরু রামদেব। মায়াবতী বলেন, “সুষমাজির মৃত্যুতে ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। তিনি এক জন দক্ষ রাজনীতিক, প্রশাসক এবং ভাল বক্তা ছিলেন। বিরোধীদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভাল ছিল। এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবার যেন লড়াই করার শক্তি পায়, সেই প্রার্থনাই করছি।” আনন্দবাজার