Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯,

ভিআইপি’র জন্য ফেরী বন্ধ রাখায় বিনা চিকিৎসায় ছাত্র তিতাসের মৃত্যু! নড়াইল

ভিআইপি’র জন্য ফেরী বন্ধ রাখায় বিনা চিকিৎসায় ছাত্র তিতাসের মৃত্যু!

কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে নিহত নড়াইলের কালিয়ার স্কুল ছাত্র তিতাসের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একজন অতিরিক্ত সচিবের আত্মিয়ের বিয়ে উপলক্ষে আগত মেহমানদের আগমন সহজ সাচ্ছন্দ করতে ক্ষমতার দাপচ দেখিয়ে সাড়ে ৩ ঘন্টা ফেরি বন্ধ করে রাথা হয়। এ সময় রোগি তিতাসকে বহনকারি এ্যাপস্বলেন্স কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে আটকা পড়ে। ফলে বিনা চিকিৎসায় ২৫ জুলাই রাতে তিতাস ফেরিঘাটেই মারা যায়। গত তিন দিনেও থামেনি তার স্বজনদের আহাজারি। মা সোনামনির আহাজারিতে কালিয়া উপজেলা শহরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তিতাস কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ও ওই গ্রামের মৃত তাপস ঘোষের ছেলে। 

তিতাসের মৃত্যুর প্রতিবাদে ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে তিতাসের বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছে। কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে তিতাসের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রতিবাদে ও ক্ষমতার দাপটে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে যারা ফেরী চলাচল বন্ধ করে তার চিকিৎসা কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে তাদের শাস্তির দাবি করে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম শুকুর আলী, সাবেক প্রধান শিক্ষক দেব কুমার ঘোষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক তরুন কান্তি মল্লিক, সহকারী শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের উপসম্পাদক ইয়াছমিন জনি প্রমূখ। 

এদিকে পুত্র শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন তিতাসের গর্ভ ধারিনী মা সোনামনি ঘোষ। বাড়িতে থাকা  ছেলের ব্যবহৃত পোষাক বুকে নিয়ে কখনও নিরবে চোখের পানি ফেলছেন আবার কখনও চিৎকার করে আহাজারি করে কেদে উঠছেন। ছেলে তিতাসের এ্যাম্বুলেন্স পার হতে পারেনি যাদের কারনে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান। 

তিতাসের বোন তনিয়া ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৪ জুলাই তিতাস সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পর দিন ২৫জুলাই ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল। রাত ৮টায় কাঠালবাড়ি ১নম্বর ফেরীঘাটে পৌছে জানতে পারেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের একজন ভিআইপি’র আত্মীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন তাই ফেরী চলাচল বন্ধ রয়েছে। তানিয়া ভাইয়ের আশংকাজনক অবস্থার কথা জানিয়ে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিলেও কোন কাজ হয়নি। রাত ১১টার দিকে ওই ভিআইপি’র আত্মীয়রা এলে সাড়ে ৩ঘন্টা পর ফেরী চলাচল শুরু হয়। ওই সময় ফেরী পার হতেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তিতাস। বোন তানিয়ার দাবি যারা বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে ফেরী আটকে রেখে তার ভাইয়ের চিকিৎসায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। তাদেরকে খুনি আখ্যায়িত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর