Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

পার্থ বনিকের ৮০ লাখ টাকা অবৈধ আইন ও আদালত

পার্থ বনিকের ৮০ লাখ টাকা অবৈধ

ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের বাসা থেকে উদ্ধার করা ৮০ লাখ টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম কারাগারে (পার্থ গোপাল বণিকের আগের কর্মস্থল) দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান পর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত টাকার বিষয়ে তিনি (পার্থ) স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুসন্ধান কমর্মকর্তা জব্দকৃত টাকার বৈধ উৎস খুঁজে পাননি। তার (পার্থ) বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মানি লন্ডারিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা হবে।

এর আগে বেলা ১২টায় পার্থ গোপাল বণিককে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এর পরেই তাকে আটক করা হয়।

আটকের সময় পার্থ গোপাল বণিক দাবি করেন, ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা শাশুড়ি দিয়েছেন। বাকি ৫০ লাখ টাকা তার সারাজীবনের জমানো অর্থ।

অন্যদিকে, অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদকের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ বলেছেন, পার্থ গোপাল বণিকের ঘোষিত আয়কর ফাইলে এ টাকার ঘোষণা নেই। তাই আমদের মনে হয়েছে, এই টাকা অবৈধ আয় থেকে অর্জিত।

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত গোপাল বণিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

পার্থ গোপাল বণিক ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম কারাগারে ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ কোটি টাকার নথিপত্রসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশের কাছে জেলার সোহেল রানা দাবি করেন, উদ্ধার করা টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা তার এবং বাকি ৩৯ লাখ টাকা পার্থ গোপাল বণিক ও চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত গোপাল বণিকের।