Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় কুমিল্লার রুহুল নিহত কুমিল্লা

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় কুমিল্লার রুহুল নিহত

অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় ১২ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৩৫)। এরই মধ্যে বিয়েও করেছেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন পরিবারের সবার মুখে হাসি ফেরাতে। কিন্তু হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার সব পথ বন্ধ করে দিলো। প্রায় এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রুহুল আমিন। পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপিয়ে গেলেন বিরাট ঋণের বোঝা! অনিশ্চয়তার দোলাচলে রেখে গেলেন স্ত্রী ও দু’সন্তানকে।

নিহত রুহুল আমিন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের হাজী মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। হাজি মমতাজ উদ্দিনের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্য রুহুল আমিন তৃতীয়। সোমবার রাতে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে রুহুল আমিন ১২ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রবাসে পাড়ি দিলেও পরিবারের জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি। রুহুল আমিন গত ১১ জুন (মঙ্গলবার) সৌদি আরবের আল বাহার আল আকিতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের বলেছেন, মরদেহ বাংলাদেশে নিলে তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে। আর না নিলে সাত লাখ টাকা দেওয়া হবে।

সূত্রটি আরো জানায়, নিহত রুহুলের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। সড়ক দুঘর্টনায় আহত হওয়ার পর দেশ থেকেই আমরা ২৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। বাড়ি-ঘর বন্ধক রেখে, জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে তার চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছি। কিন্তু সে তো আর ফিরলো না।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, যেহেতু মরদেহ না আনলে ৭ লাখ টাকা পাবে, সেক্ষেত্রে পরিবার হয়তো মরদেহের বদলে টাকাই পেতে চাইবে। আর্থিক অনটনে জর্জরিত নিহতের পরিবার বেশ দোটানায় পড়েছে। নিহত রুহুলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখবে নাকি ৭ লাখ টাকা নেবে সে বিষয়ে ভাবছে এখন নিহতের পরিবার।