Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাই, জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাই, জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একের পর এক ঘটছে ছিনতাই, চুরি ও মারধরের ঘটনা। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একটি চক্র জড়িত।

২০ জুলাই (শনিবার) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে অবস্থানকৃত ছিনতাই চক্রের কবলে পড়েন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ মামুন। এসময় ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল, মানিব্যাগ ও ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পাশে থাকা ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী ফোন দিয়ে এনে এসএম (নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) হলের শিক্ষার্থীদের রড, স্ট্যাম্প ও চেয়ার দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজিমউদ্দীন সাইমুন, সাজ্জাদ ও পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন নাজিমউদ্দীন সাইমন। পরে ২১ জুলাই ডাক্তার তাকে রিলিজ দেন।

জানা গেছে, ঢাবির জগন্নাথ হলে সংযুক্ত আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুজয় বসু ও তার সাথে আরো কয়েজন মিলে একটি চক্র এ ঘটনার সাথে জড়িত। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা ও এই চক্রের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। ইতোপূর্বে সুজয় বসুর বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল ছিনতাইসহ প্রক্টর বরাবর একাধিক অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। সুজয় বসু ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী বলে জানা যায়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১নং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তারসহ এসএম হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। উভয় পক্ষের মাঝে তিন দফায় ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ বিষয়ে হামলার শিকার নাজিমউদ্দীন সাইমুন বলেন, “রাত ৯ টার দিকে আমরা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকজন ছেলে একটা লোকের সাথে বিতন্ডা করছে। পরে আমরা এগিয়ে আসলে তারা আমাদের চলে যেতে বলে। এক পর্যায়ে ওরা ৩০-৪০ জন এসে রড, স্ট্যাম্প ও চেয়ার দিয়ে আমাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।”

এ ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার বলেন, “আহমেদ মামুন আমার কাজিন। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ঢাবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসে ছিনতাইয়ের কবলে পড়লে আমি ঘটনাস্থলে যাই। বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলেও জগন্নাথ হলের ওই ছিনতাই চক্রটি উদ্ধত আচরণ করে। তার বলে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সনজিতের অনুসারী। আমি পুরো আঁৎকে উঠেছি ছিনতাইকারী হয়েও তারা গর্বের সাথে বলে আমরা সনজিতের অনসারী। পরে প্রক্টরিয়ার টিম এসে পরিস্থিতি শান্ত করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা।”

তিনি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েও বলছি। আমি সংস্কারে বিশ্বাসী। আমি চাই ছাত্রলীগের গুণগত পরিবর্তন আসুক। কিন্তু এই ধরণের কার্যাকলাপ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের জন্যও অপমানজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটু অনুসন্ধান করে প্লিজ এই বিষয়ে একটু সমাধান করার চেষ্টা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যদি এরকম অনিরাপদ হয় তাহলে বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর অবস্থা কি হবে! গত কয়েকদিন আগেও টিএসসির ডাচ থেকে এক বোনের ল্যাপটপ ছিনতাই হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে যদি এই চক্র এমন অবস্থা করে, তবে সাধারণ মানুষের সাথে কি করছে তা সহজেই বুঝা যায়।’

তবে এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসকে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথ হলের প্রোভোস্ট ড. মিহির লাল সাহা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তবে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিবো।’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘একটা ইন্সিডেন্টের খবর পেয়েছি। প্রক্টরিয়াল টিম গিয়েছেন সেখানে।তারপর দুই পক্ষের একটি মিচুয়ালে যার যার হলে ফিরে গেছে তারা। জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট মহোদয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

ক্যাম্পাসে অহরহ ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছিনতায়ের ঘটনায় ছাত্রের জড়িত থাকা বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। যারা শিক্ষাদের জীবনমানের উপর হামলা করে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পারেনা। এ ধরনের ঘটনার সাথে যারা জড়িত, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো। গত এক সপ্তাহে আমরা এ ধরনের চারজনকে থানায় পাঠিয়েছি। তারা সবাই এজহারভুক্ত আসামি।’