Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম

গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গণমাধ্যমে অনেক সমস্যা আছে। সে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বর্তমান সরকার। দেশের টেলিভিশন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার যা যা করার দরকার, তা-ই করছে। নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে টিভি জার্নালিস্টস্ অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম এর নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক ও প্রীতি সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি আয়ের উৎস। দেশের বিজ্ঞাপনের বড় অংশই এতদিন বিদেশি চ্যানেলে ছিল। এ অজুহাতে টেলিভিশন মালিকরা তাদের সম্প্রচারের ক্ষেত্রও ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেউ কেউ। ব্যয় কমাতে প্রায়শই চলে ছাঁটাই প্রক্রিয়া। এসব বিষয়ও নজরে রাখছে সরকার। বর্তমানে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধে কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে গত দশ বছরে অনেক বিকাশ ঘটেছে। বিশেষ করে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার। দশ বছর আগে দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ছিল মাত্র দশটি। কিন্তু বর্তমানে চ্যানেলের সংখ্যা ৩৪টি। সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায় আছে আরও বেশ কিছু। শুধু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াই নয়, গত দশ বছরে প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ারও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সবার আগে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যেন ভুল সংবাদ পরিবেশন না করা হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন ড. হাছান মাহমুদ। টিভি জার্নালিস্টস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাছির উদ্দিন তোতার সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক অনুপম শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, বিএফইউজের সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, সাংবাদিক শহিদুল আলম, সালাউদ্দিন রেজা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক আলী আব্বাস ও শামসুল হক হায়দরীকে কৃতি সাংবাদিক সম্মাননা দেয়া হয়।

অপরদিকে, ৩৮ বছর ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বুধবার জামালখান রিমা কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বন্দি দিবসের’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন,  আওয়ামী লীগ পর পর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুর মুখে থেকেও পিছপা হননি, বিচলিত হননি। দলে অনেক সুযোগসন্ধানী ঢুকেছে। অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। সুযোগসন্ধানী-অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ২১ বছর যারা বুকে পাথর চেপে রেখে দলের জন্য ত্যাগ করে গেছে তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে হবে। এসব কর্মীই দরকার আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন। অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিবে। আওয়ামী লীগে যোগদান করে দল করার অধিকার সবার আছে কিন্তু সবার পদ-পদবী পাওয়ার অধিকার নেই।

বিএনপির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে। ক্ষমতায় এসে সবকিছু লুটেপুটে খায়। তারা টানা কয়েকবার এদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে-বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী আহমদ এমন মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কুমিল্লা আদালতে ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

তিনি বলেন, বাসার ভেতর স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করলে সেটাকে কী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলবেন বিএনপি নেতারা!

দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, আওয়ামী ক্ষমতায় আসার পর যারা দলে সম্পৃক্ত হয়েছেন আপনারা দলের দুঃসময়ে ছিলেন না। আজকে দলের সুদিন রয়েছে, এই সুদিন নাও থাকতে পারে। দলের দুঃসময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতাকর্মীদেরকে ত্যাগী মনোভাব রাখতে হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।