Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত, পারের অপেক্ষা শতশত যানবাহন রাজবাড়ী

তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত, পারের অপেক্ষা শতশত যানবাহন

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ফেরি গুলো তীব্র স্রোতের কারণে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। এছাড়া রুটের তিনটি ফেরি বর্তমান স্রোতের বিপরীতে চলাচল করতে না পারায় সেগুলো সম্পূর্ন বসে আছে। এতে করে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রচন্ড এই স্রোতের বিপরীতে রুটের ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারছে না। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিটি ফেরি এক ঘাট থেকে অপর ঘাটে পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগত। কিন্তু বর্তমানে এক ঘন্টারও বেশী সময় লাগছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরোনো ফেরি হওয়ায় রুটে চলাচলকারী তিনটি ফেরি বর্তমান স্রোতের মধ্যে চলাচলের জন্য সম্পুর্ন অনুপযোগী। তাই ফেরি তিনটিকে ঘাটেই বেঁধে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে মোট ২০ টি ফেরির মধ্যে ৫ টি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেরামত করা হচ্ছে। এ সকল কারণে নৌরুটে ফেরি সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে স্রোতের বিপরীতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে চলতে গিয়ে রুটের শাহ আলী ও খানজাহান আলী নামের দু’টি রোরো ফেরির সাইলেন্সার পাইপে আগুন ধরে যায়। এসময় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেরিতে থাকা অগ্নিনির্বাপক ব্যাবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রনে এনে কিছু সময় বিশ্রাম দিয়ে ফেরি দু’টি পুনরায় চলাচল শুরু করে।

সরেজমিনে বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড় পর্যন্ত অন্তত ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘাট এলাকার দ্ইু কিলোমিটার ফোর লেন সড়কের বাম পাশে তিন সাড়ি ও এর পর থেকে দুই সারিতে সহস্রাধিক বিভিন্ন যানবাহন আটকে আছে। এসময় একাধিক বাস চালক অভিযোগ করেন, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকা থেকে অনেক যাত্রীই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কিন্তু এরকম দূর্ভোগের মধ্যে যাত্রীবাহী যানবাহনের সাথে দালালদের মাধ্যমে অতিক্তি টাকা দিয়ে অনেক পন্যবাহি ট্রাক ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, রুটে চলাচলকারী ১৫ টি ফেরি মধ্যে তীব্র স্রোতের কারণে তিনটি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। অন্য ফেরিগুলো ট্রিপে অতিরিক্ত সময় লাগায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মানুষের দূর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহি যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। পন্যবাহি ট্রাক পারাপার বিষয়ে তিনি বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পচনশীল পন্যবাহি কিছু ট্রাক বাসের সাথে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, মেরামতে থাকা রুটের ৫ টি ফেরি আগামী সপ্তাহে রুটে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর