Opu Hasnat

আজ ২১ অক্টোবর সোমবার ২০১৯,

শেষ পর্যন্ত রংপুরেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজনীতিরংপুর

শেষ পর্যন্ত রংপুরেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

শেষ পর্যন্ত রংপুরেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

মঙ্গলবার বিকেল ৫ টা ৫১ মিনিটে এইচ এম এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাস সংলগ্ন মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতালের লিচু বাগান চত্বরে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা ২টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে জানাজা হয়। জানাজা পড়ান কেরামতিয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ ইদ্রিশ আলী। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজার আগের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ দলীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন।

জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়ি মাঠ ছেড়ে যেতে চাইলে নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবিতে সেখানে অবস্থান করেন। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন যে, এরশাদের দাফন রংপুরে হবে। এতে উপস্থিত লোকজন কিছুটা শান্ত হন। পরে রংপুরেই লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে এরশাদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসে অবতরণ করে। সেখান থেকে লাশ কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নেয়া হয়।

সকাল থেকেই এরশাদকে একনজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। জানাজা শুরুর আগেই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুর জেলা দোকান মালিক সমিতি নগরীর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখে। এছাড়া, নগরীর বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন ও শোক ব্যানার লাগানো হয়। সিটি করপোরেশনে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

জানাজা শেষে কালেক্টরেট মাঠ থেকে লাশ বহনকারী গাড়ি নগরীর প্রধান সড়ক দিয়ে এরশাদের পৈত্রিক নিবাস স্কাই ভিউতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞপন করেন। বিকেল ৫টার দিকে এরশাদের লাশ বহনকারী গাড়ি পল্লী নিবাসে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ এরশাদের কফিনে শ্রদ্ধা জানান। ৬টা ২ মিনিটে এরশাদকে কবরে শায়িত করা হয়।

জানাজার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রথম থেকেই চাচ্ছিলাম, এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করব। তবে ভাবি (রওশন এরশাদ) বিভিন্ন কারণে চাচ্ছিলেন তাকে ঢাকায় দাফন করতে। তবে রংপুরের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার কারণে সর্বসম্মতভাবে আমরা তাকে এখানেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাবিও এতে রাজি হয়েছেন। এরশাদের কবরের পাশে নিজের জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ।

দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পল্লী নিবাসেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরশাদের অবর্তমানে দল আরো সুসংগঠিত হবে। জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হবেন, এতে রওশন এরশাদের কোনো দ্বিমত নেই। সকলে মিলে একসাথে কাজ করব।

সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কবরের জায়গা নির্ধারণ করেন। তিনি নিজেই কবর খনন শুরু করেন। এরশাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় থেকেই রংপুর জাতীয় পার্টির নেতারা তাকে রংপুরে দাফনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, এরশাদ বলে গেছেন যে, তাকে যেন পল্লী নিবাসে দাফন করা হয়।