Opu Hasnat

আজ ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

বোয়ালমারী মহিলা কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ফরিদপুর

বোয়ালমারী মহিলা কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর শহরে অবস্থিত নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে অনার্স শাখায় মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় এবং এইচএসসি বি.এম শাখার পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

কলেজ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের ৪র্থ বর্ষ অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা গত ৭ এপ্রিল ২০১৯ থেকে শুরু হয়। অনুষ্ঠিত অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে সমাজকর্ম, বাংলা, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে বোর্ড ধায্যকৃত ফি এর বাইরে অনার্স শাখার চারটি বিভাগের প্রধানরা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। এর মধ্যে বাংলা বিভাগের প্রধান ড. হোসনেয়ারা ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ৪৪ হাজার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের রবিন কুমার লস্কর ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৩ হাজার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তন্দ্রা রানী দাস ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে  ৩৩ হাজার এবং সমাজকর্ম বিভাগের মো. ফরহাদুল ইসলাম সিকদার ৪২ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা অতিরিক্তি আদায় করেছে। এছাড়া বিএম শাখার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি বাবদ অতিরিক্তি ১৭৮ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১শ টাকা করে ১৭ হাজার ৮শ টাকা আদায় করেন সহকারী অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসেন।

সমাজকর্ম বিভাগের মো. ফরহাদুল ইসলাম সিকদার বলেন, সারা বাংলাদেশে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য সরকার কোন বরাদ্দ প্রদান করে না। আমরা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে এই টাকা বিভিন্ন খরচ বাবদ ব্যায় করে থাকি। তিনি বলেন আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন ফরিদপুরের অন্য কলেজ গুলোতে একই ঘটনা ঘটেছে। 

ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রবিন কুমার লস্কর পরীক্ষার্থী প্রতি অতিরিক্ত ১ হাজার করে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই এ টাকা নেয়া হয়েছে।

বাংলা বিভাগের প্রধান সহযোগি অধ্যাপক ড. হোসনেয়ারাকে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনে কথা বলার অস্বীকৃতি জানিয়ে সরাসরি কথা বলার জন্য কলেজে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার আবু মোরসালিনের নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, গভণিং বডির সভাপতি ও বাংলাদেশ আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, কলেজের শৃঙ্খলা ভেঙে যদি কেউ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর