Opu Hasnat

আজ ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না : চসিক মেয়র চট্টগ্রাম

পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের নেতৃত্বে বন্দর পতেঙ্গার  ৬টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের সাথে চসিক কনফারেন্স হলে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে তারা সিটি মেয়রকে ১০টি দাবী সমল্বিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। ৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে গোসাইলডাঙ্গা, উত্তর মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে  হারুনুর রশিদ, আবদুল বারেক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মো. নুরুল আলম, জয়নাল আবেদীন আজাদ, মো. নাছির উদ্দীন, মো. সেলিম, মো. মোরশেদ আলী, লিটন মহাজন, মো. নিজাম উদ্দিন, সৈয়দ নুর নবী লিটন, মো. ইসকান্দর মিয়া সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন ।
 
স্মারকলিপিতে সুজন উল্লেখ করেন যে, বন্দর- পতেঙ্গা এলাকায় কয়েকটি আইসিডি কন্টেইনার ডিপো রয়েছে। এই ডিপোগুলির লরী-কভারভ্যানের বেপরোয়া গাড়ী চালানো ও যত্রতত্র গাড়ী এলাপাতাড়ি পাকিং এর কারণে দৈনন্দিন দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে লোকজন যেমন হতাহত হচ্ছে, তেমনি মারাত্মক যানজটের শিকার হয়ে বন্দর পতেঙ্গার জনজীবন স্থবির হয়ে যাচ্ছে। আরও দুঃখজনক হলেও সত্য, যেসব চালক লরিগুলো চালায় তারা ছোট ছোট ছেলে এবং বেশীরভাগই আনাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার। ফলে বেপরোয়া গাড়ী চালিয়ে দূর্ঘটনার সংখ্যা বাড়িয়ে দৈনিক মৃত্যসারি দীর্ঘ হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে আইসিডি ডিপোগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্দর, ডিসি ট্রাফিক, আআসিডি কর্তৃপক্ষ, সিডিএ সকল পক্ষের সমন্বয়, এই বর্ষা তথা বৃষ্টি-বাদলে অসহনীয় যানজটের পাশাপাশি মারাত্মক জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। এরই মধ্যে আপনার আন্তরিকতা অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। 

উল্লেখ্য, বন্দরের কারণে ৩৯নং ওয়ার্ডে নালা-নর্দমার জায়গা ও ড্রেইনের ব্যবস্থা বন্ধের পর্যায়ে, যা নিরসনকল্পে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কিছু অসাধু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে খাল, নালা ভরাট দখল করে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যার কারণে পানি নিস্কাশন ও পানি নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। অনেক জায়গায় নালা ও পানি চলাচলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে । পতেঙ্গা ৪১ নং ওয়ার্ডে বিমান বন্দরে পশ্চিম রানওয়ে সংলগ্ন একটি খাল আছে যা দিয়ে বিগত দিনে ফুলছরি পাড়া, নাজির পাড়া দক্ষিণ পাড়া, ডেইল পাড়া, চৌধুরী পাড়া, মাইজ পাড়া সহ ৪০ নং ওয়ার্ডের পূর্বাংশে বৃষ্টির পানি ঐ খালদিয়ে নেে ম খাল/নদীতে চলে যেত। এমতাবস্থায় বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ এই খালকে তাদের একক সিদ্ধান্তে প্রতিবন্ধকতা ও অনেক জায়গা পুরে াপুরি বন্ধ করে দেয়ার কারনে এসব জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গাস্থ ভারটেক্স এর স্বেচ্ছাচারী দখলদার মনোভাবের কারনে উত্তর পতেঙ্গা পূর্বাংশের জনসাধারন জলাবদ্ধতা নিয়ে গভীর সম্যায় আছে। সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পানিতে চলাচল করতে হয়। যার জন্য দায়ী ভারটেক্স কর্র্তৃপক্ষ। ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডগুলোতে যে সকল জায়গায় পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এবং পানি নামার নালা খাল সহ পানি চলাচলের বাধাপ্রাপ্ত জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তা অনতিবিলম্বে উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের দাবী জানান, ৪১ নং ওয়ার্ডের লালদিয়ার চর এলাকায় ১০/১২ হাজার লোকের বসবাস। ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আগামী ১৭/১৮ জুলাই উচ্ছেদ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। উচ্ছেদ আতংকে অসহায় লোকগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এই বর্ষার মৌসুমে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। মানবিক দৃস্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাদের উচ্ছেদের সময়টা একটু বৃদ্ধি করার জন্য অসহায় মানুষগুলো আপনার সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছে, কাটগড় বাজার এলাকা একটি ব্যস্ততম এলাকা। ৫/৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। বেপরোয়া গাড়ী চালানোর কারনে দৈনিক অনেক ছাত্রছাত্রী ও পথচারী হতাহত হচ্ছে এখানে একটি ফুট ওভার ব্রিজ পতেঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ও পতেঙ্গা হাই স্কুলের সামনে গতিরোধক স্পিড বেকার দেয়ার জন্য দাবী, পতেঙ্গ ও  বন্দর এলাকার ৩৭/৩৮ ও ৩৯ নং ওয়ার্ডের আরেকটা মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং। রাস্তার পাশে বাস, ট্রাক ও লরি রেখে জনগণের চলাচল রীতিমত বাধাগ্রস্থ করে ছ। এই অবৈধ পার্কিং থেকে পতেঙ্গা বিমান বন্দর সড়কে মোটা অংকের চাঁদা তোলা হচ্ছে এই চাঁর লোভে থানা পুলি শ সহ স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির জোগ সাজসে এই অবৈধ পার্কিং উটছেনা সিডিএ কর্তৃক নির্মাণাধিন ফ্লাইওভার এবং ঠিকাদারে স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বন্দর পতেঙ্গায় চলাচলের রোডটি বিশাল গর্ত ও হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। যা  দুর্ঘটনা ও জানযটের অন্যতম কারন। বন্দর পতেঙ্গাবাসীর প্রানের দাবী স্থায়ী বেড়ীবাঁধ যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদন্যতায় চারলেইনে উন্নিত করে নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু মাত্র ৬ মাসের মাথায় ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে পড়েছে। যনমনে এই নিয়ে বিরুপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবৃদ্ধ করেছে, বন্দর পতেঙ্গা এলাকায় অনেক শিল্প কারখানা থাকার পরও স্থানীয় লোকদের যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি হচ্ছে না। স্থানীয়দের এলাকায় অবস্থিত কলকারখানায় যোগ্যতার বিচারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরী প্রদান, বন্দর পতেঙ্গা এলাকায় বিদ্যুত বিভাগ মিটার না দেখে গড় বিল দিয়ে এবং গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে । সর্বপারি ওয়াসার লাইন না থাকায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
 
সিটি মেয়র স্মারকলিপি গ্রহন করে বলেন যে, উল্লেখিত দাবীগুলো যৌক্তিক । তিনি এই দাবী সমূহের সাথে একাত্মতা ঘোষনা বলেন আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমরা কাজ হচ্ছে নগরবাসীর প্রাপ্ত সেবা নিশ্চিত করা ।নগরবাসীর সেবা যেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা বাধাঁগ্রস্থ হবে, সেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বসে থাকবে না। এক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে হুশিয়ারী উল্লেখ করেন সিটি মেয়র। 

তিনি বলেন, ৬০ বর্গমাইল জুড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই এলাকায় মধ্যে কোথায় কোন সমস্যা বিদ্যামান রয়েছে, তা সুনিদিষ্টভাবে অবহিত করলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সমস্যা সমূহ সমাধানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন যত্রতত্র গাড়ী পাকিং নগরীর যানজট অন্যতম কারণ। বিমান বন্দর সড়কের লরী কভারভ্যান বেপোওয়া গাড়ী চলানো এবং যত্রতত্র গাড়ী এলোপাতাড়ি পাকিং কারণে দুঘটনা ঘটছে অহরহ । মারাত্মক যানজটের শিকার হয়ে বন্দর পতেঙ্গার জনজীবন স্থবির হয়ে যাচ্ছে। এসব গাড়ীর চালকরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ ও লাইন্সেস বিহীন ড্রাইভার। এদের কারণে দুর্ঘটনা সংখ্যা বেড়ে দৈনিক মৃত্যুর সারি দীঘ হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য  বিআরটিএ এবং প্রশাসনের  ট্রাফিক বিভাগকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান মেয়র।  আইসিডি ডিপোগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মেয়র চসিক, বন্দর, সিডিএ এর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। 

নগরীর জলবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন  সম্প্রতি অতিবর্ষনে নগরীর যানজটের পাশাপাশি মারাত্মক জলবদ্ধতা নগরজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। নগরীর কিছু সংখ্যক ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান নগরীর খাল নালা ভরাট ও অবৈধদখল করে নগরীর পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। যার কারণে বৃষ্টির পানি নিস্কাষনের বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।  এই ক্ষেত্রে যারা পানি চলাচলের বাধা সৃষ্টি করছে ,তারা যতবড় প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।