Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ’র মানববন্ধন

চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেগাপ্রকল্পগুলো টেকসই নির্মাণ নিশ্চিতের দাবি চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেগাপ্রকল্পগুলো টেকসই নির্মাণ নিশ্চিতের দাবি

চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার গৃহীত মেগাপ্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার, অপচয়রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি সেল গঠনের দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সরকারি বরাদ্দের অপচয় রোধ এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেগাপ্রকল্পগুলো’র টেকসই স্থাপনা নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবিতে নাগরিক উদ্যোগ চট্টগ্রাম আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি উত্থাপিত হয়। 

চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ‘র আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী‘র সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ’র প্রধান সমন্বয়ক সাংস্কৃতিক সংগঠক খোরশেদ আলম’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তাগণ এ দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী চট্টগ্রামের উন্নয়নে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি একাধিক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি সরকারি অর্থ অপচয় ও লুটপাটের আলামত সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জবাবদিহিতা ও সমন্বয়হীনতার অভাবে এ মেগাপ্রকল্পগুলোর কার্যক্রম এলোমেলো ভাবেই চলছে। যার ফলে এ প্রকল্পগুলোর সুফল আদৌ জনগণ পাবে কিনা সেই ক্ষেত্রেও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ সংশয় বিদূরিত না হলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশক্সক্ষা রয়েছে। সর্বোপরি সরকারের দেশব্যাপী নজিরবিহীন উন্নয়ন উদ্যোগ সরকারি অর্থ বরাদ্দ লুটপাটে জড়িত একটি স্বার্থান্বেষী মহল গিলে ফেলতে বসেছে। 

এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধিদের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্বার্থরক্ষায় উদ্যোগী হবার জন্য বক্তাগণ আহ্বান জানান। 

নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সহ শহর রক্ষা বাধ কাম আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানালে বক্তাগণ তার প্রতিও একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট ২২টি সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়িত্তশাসিত সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ সংস্থাগুলোর হাতে মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বরাদ্দ প্রদান করা হলেও এদের মধ্যে কাজের পারষ্পরিক সমন্বয় নেই এবং তাদের কাজের কোন জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতাও নেই। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের দায়সারা মানসিকতায় বরাদ্দের অর্থ অপচয় হচ্ছে এবং দীর্ঘ সূত্রতাসহ নানবিধ অনিয়ম মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে এ সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব অর্পিত হলে সমন্বয়হীনতার সংকট নিরসন হবে এবং কাজের জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত হবে। 

নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে এ সমস্ত মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের প্রধানদের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই করে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক হস্তক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানালে বক্তাগণ তার প্রতিও সমর্থনসূচক সম্মতি প্রদান করেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের পেশাজীবি জনগণের অংশ গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য সরকারের নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, জাসদ কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির  সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্দু নন্দন দত্ত, নারী নেত্রী নূরজাহান খান, সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বেলা, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস, পরিবেশবিদ অধ্যাপক এম ইদ্রিছ আলী, সাংবাদিক প্রীতম দাশ, বিপ্লব পার্থ, ন্যাপ কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুল দাশগুপ্ত, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, জাবেদুল আলম সুমন, এম এ মান্নান শিমুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আবদুল আল মামুন, সাংস্কৃতিক কর্মী কবি সজল দাশ, অচিন্ত্য কুমার দাশ, সংগঠক জনি বড়ূয়া, ইমরান সোহেল চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি আরিফ মঈনুদ্দিন, মাহমুদুল হক আবু, সাবেক ছাত্রনেতা শাহেদ মিজান, মেজবাহ উদ্দিন, ইমরান আলী মাসুদ, মাকসুদুর রহমান, নাছির উদ্দিন কুতুবী, রায়হানুল হক শামীম, ইয়াছির আরাফাত বাপ্পী, রাজীবুর রহমান, হুমায়ুন কবির, অনিন্দ্য দেব, নিজাম উদ্দিন মহিন, আলী আকবর, আবু জাহেদ রবিন প্রমুখ।